অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তাচেতনার মধ্যে কেবলই ছিল দেশ ও দেশের মানুষ। দল–মতের ঊর্ধ্বে উঠে আজীবন তিনি দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেছেন, লিখেছেন। প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশপন্থী মানুষ।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মরণসভায় এ কথা বলেন তাঁর সহকর্মী ও স্বজনেরা।
স্মরণসভায় নীরবতা ও শ্রদ্ধা
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘আবুল কাসেম ফজলুল হকের সাধনা’ শিরোনামে এ স্মরণসভার আয়োজন করে ডেইলি স্টার। স্মরণসভায় আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
গত ৫ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মৃত্যুবরণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
ছাত্রের চোখে শিক্ষক
আবুল কাসেম ফজলুল হকের সরাসরি ছাত্র ছিলেন গবেষক মোরশেদ শফিউল হাসান। স্মরণসভায় তিনি বলেন, ‘স্যার বিশ্বাস করতেন, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন টেকসই হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রবন্ধ লিখতেন। প্রবন্ধকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন।’
মোরশেদ শফিউল হাসানের ভাষায়, ‘বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এক “নিঃসঙ্গ সারথি”, যিনি শেষ পর্যন্ত তাঁর আদর্শে অটল ছিলেন।’
সহকর্মীর মূল্যায়ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের সহকর্মী। তিনি বলেন, ‘তাঁর সমস্ত চিন্তাজুড়ে ছিল বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন প্রকৃত বাংলাদেশপন্থী। এ দেশের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মানুষের কল্যাণে পরিবর্তন কীভাবে হবে, সে চিন্তাই সারা জীবন করে গেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক।’
গবেষকের ভাষায় অপূরণীয় ক্ষতি
স্মরণসভায় লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিছু ক্ষতি আছে, যার কোনো প্রতিস্থাপন হয় না। আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রস্থান তেমনই এক ক্ষতি। আরেকজন আবুল কাসেম ফজলুল হক তৈরি হতে কত বছর লাগবে বা আর তৈরি হবে কি না, সে নিশ্চয়তা কারও কাছেই নেই।’
মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘তাঁকে কখনো উত্তেজিত বা রাগান্বিত হতে দেখিনি। বরং সব সময় ছিলেন অমায়িক ও উৎসাহদাতা।’
কন্যার স্মৃতিচারণ
স্মরণসভায় পিতার স্মৃতিচারণা করেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের কন্যা অধ্যাপক শুচিতা শারমিন। তিনি বলেন, ‘তাঁর বাবা কখনো বৈষয়িক মানুষ ছিলেন না। নিজস্ব এক জগতে ডুবে থাকতেন, যেখানে পড়াশোনা ও লেখালেখিই ছিল প্রধান। তিনি শিক্ষার্থীদের সব সময় উৎসাহ দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই কাজ করে যাওয়ার শিক্ষা দিতেন।’
অন্যান্য বক্তা
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, লেখক ও প্রকাশক সাঈদ বারী প্রমুখ। এতে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সভাটি সঞ্চালনা করেন কবি ইমরান মাহফুজ।



