প্রথম আলো ও বন্ধুসভা: তরুণ শক্তির ২৭ বছরের পথচলা
প্রথম আলো ও বন্ধুসভা: তরুণ শক্তির ২৭ বছর

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, প্রথম আলো ও বন্ধুসভা একে অপরের সাথি। বিগত ২৭ বছরের পথচলায় বন্ধুসভা প্রমাণ করেছে যে একটি সংগঠন কতটা শক্তিশালী হতে পারে যখন এটি তরুণদের হাতে গড়ে ওঠে।

তরুণ জনগোষ্ঠীর শক্তি

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশই তরুণ, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। সংখ্যার হিসাবে এই তরুণ জনগোষ্ঠী এখন ৪ কোটি ৫৯ লাখ। মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামনে অগ্রসর হওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তারুণ্য। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ, আর ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

তরুণদের স্বপ্ন ও কাজ

তবুও এ দেশের তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখে, সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করে এবং সবচেয়ে বেশি কাজও করে। তারা নতুন পথ খোঁজে, পুরোনো দ্বিধা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এবং পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে জানে। এ কারণেই প্রথম আলো বন্ধুসভাকে সব সময় বিশেষভাবে দেখে— এরা সেই তরুণসমাজ, যারা বিনা স্বার্থে কাজ করে এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম আলো ও বন্ধুসভার সম্পর্ক

প্রথম আলো আর বন্ধুসভার পথচলা শুরু একই সময়ে। প্রথম আলোর চলার পথে বড় শক্তি বন্ধুসভা। দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণাসহ প্রথম আলোর বড় যত কাজ, সেখানে বন্ধুসভা সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুক্ততা থাকে। মতিউর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি ছোট ছোট উদ্যোগ কীভাবে বড় সামাজিক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্ধুসভার কার্যক্রম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্ধুসভার তরুণেরা প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়। মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে নিয়মিত পাঠচক্র করে; বইমেলার আয়োজন করে, সাহিত্যচর্চা করে। অর্থাৎ মেধা উন্নয়নের চেষ্টা করে সব সময়। কোনো মানুষ বিপদে পড়লে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যায়। ঈদে সহমর্মিতার কর্মসূচির আয়োজন করে। মানবিক এই প্রবণতাই বন্ধুসভার পরিচয়কে আলাদা করে তুলেছে।

বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ

বর্তমান যুগকে আমরা এআইয়ের যুগ বলি, প্রযুক্তির যুগ বলি। কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি প্রতিযোগিতার যুগও। তরুণদের ওপর এখন পড়াশোনা, ভর্তি, চাকরি, দক্ষতা ইত্যাদি মিলিয়ে নানা রকম চাপ বহুগুণ বেড়েছে। কঠিন এই সময়েও যারা এসব কাজের পাশাপাশি সামাজিক কাজে সময় দেয়, নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত থাকে, তারা সত্যিই বিশেষ। এতে প্রমাণিত হয়, উন্নতি শুধু নিজের নয়, সবার সঙ্গে মিলেও হতে পারে। সমাজের জন্য কিছু করার অভ্যাসই ভবিষ্যতের প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে তোলে।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

মতিউর রহমান বিশ্বাস করেন, আগামী দিনে বন্ধুসভা আরও সুসংগঠিত হবে, কাজের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বন্ধুসভার অবদান আরও দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানবিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধার মতো সঠিক মূল্যবোধ ধরে রাখা। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এসব মূল্যবোধ ছাড়া কোনো সমাজ টিকে থাকতে পারে না।

নতুন উদ্যোগ ও ডিজিটাল যুগ

বন্ধুসভার কর্মসূচিগুলো সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে। নতুন উদ্যোগ আসছে, নতুন ভাবনা যোগ হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন নিরাপত্তা, সাইবার বুলিং, মানসিক স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা উন্নয়ন—এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা এখন খুব জরুরি। এসব নতুন ক্ষেত্রেও বন্ধুসভার তরুণেরা নিজেদের ভূমিকা আরও জোরালো করছে। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে তরুণদের চিন্তা, তাদের কল্পনা, তাদের সাহসী স্বপ্নই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলছে।

ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ

ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ সেই নেতৃত্ব, সেই শক্তি, সেই সম্ভাবনারই এক মিলনমেলা হতে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা তরুণেরা যখন একসঙ্গে বসে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করবে, নতুন পরিকল্পনা করবে, নিজেদের ভুল থেকে শিখবে, নিজেদের অর্জন নিয়ে আলোচনা করবে, তখনই বন্ধুসভার প্রকৃত শক্তি সামনে আসবে। এই সমাবেশ শুধু উৎসব নয়; এটি তরুণদের নাগরিক চেতনা গড়ে তোলার জায়গা, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার সুযোগ।

তরুণদের ভূমিকা ও প্রত্যয়

যারা আজ তরুণ, তারা আগামী দিনের সমাজ নির্মাতা। এই নির্মাণে প্রয়োজন চিন্তা, পড়াশোনা, প্রশ্ন করার সাহস, ভুল থেকে শেখার মানসিকতা এবং মানুষের প্রতি গভীর মমতা। বন্ধুসভার তরুণদের কাজে দেখা যায়, মানুষের জন্য কিছু করতে হলে বড় পরিসর লাগে না, লাগে সৎ ইচ্ছা আর দৃঢ়তা। বন্ধুসভার সদস্যরা একসময় নানা পেশায় যুক্ত হয়; ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। কিন্তু প্রথম আলোকে তারা ভোলে না। প্রথম আলোর আদর্শ, মূল্যবোধ তাদের মধ্যে অক্ষুণ্ণ থাকে সব সময়।

সমাপ্তি

প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের সঙ্গে চলতে পারার চ্যালেঞ্জ যেন মোকাবিলা করতে পারে প্রথম আলো আর বন্ধুসভা একসঙ্গে। নিজেদের জানা-বোঝা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে যেন সমর্থ হয়। মতিউর রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে বন্ধুসভা আরও সুসংগঠিত হবে, কাজের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে। দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বন্ধুসভার অবদান আরও দৃশ্যমান হবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রথম আলো সব সময় এই তরুণ শক্তির পাশে থাকবে।