রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি এখন বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত। এখানে ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতার, হকি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল এবং মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন খেলার জন্য আধুনিক সুবিধা রয়েছে।
বসুন্ধরা কিংস এরিনা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
বসুন্ধরা কিংস এরিনা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণাধীন রয়েছে।
বাসিন্দাদের উদ্বেগ
তবে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও স্পোর্টস সিটি যদি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় আসে, তাহলে কি বর্তমান সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে?
একাংশ বাসিন্দা দাবি করেন, বর্তমানে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক, নিষ্কাশন ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পরিচালনা করছে। ফলে এলাকাটি ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় পরিষ্কার, নিরাপদ ও পরিকল্পিত। তাদের আশঙ্কা, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে অবৈধ দখল, যানজট, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, যা বর্তমান পরিবেশের ক্ষতি করবে।
সাবেক এমপির মতামত
এ প্রসঙ্গে সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি বলেন, “আমি ধানমন্ডিতে ৩০ বছর যে নিরাপত্তা পাইনি, তা বসুন্ধরায় এসে পেয়েছি। গত কয়েক বছরে এখানে পুলিশের সাহায্য প্রয়োজন হয় এমন কোনো ঘটনার কথা শুনিনি।” তিনি আরও বলেন, “অনেক ক্যান্টনমেন্টেও বসুন্ধরার মতো সুসংহত ব্যবস্থা নেই। এই ব্যবস্থা ধ্বংস করা উচিত নয়।”
ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চিঠি
অন্যদিকে, বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের কাছে একটি চিঠিতে জানিয়েছে, এলাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসতে আগ্রহী নন। একইসঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞদের মতে, বসুন্ধরার মতো বড় পরিকল্পিত আবাসিক ও ক্রীড়া প্রকল্প পরিচালনার জন্য একটি কার্যকর সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। তবে এখন মূল প্রশ্ন হলো সেই কাঠামো কী হবে এবং কীভাবে বর্তমান মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।



