ঢাকা-১১ আসনে ফলাফল পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র, নাহিদ ইসলামের তীব্র অভিযোগ
ঢাকা-১১ আসনে ফলাফল পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র

ঢাকা-১১ আসনে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা, নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "নিশ্চিত জয় টের পেয়ে ঢাকা-১১ এর কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখে পরিবর্তন করে ফেলার চেষ্টা চলছে। সবাই সতর্ক থাকুন। ষড়যন্ত্র রুখে দিন। যেকোনো অপচেষ্টার সমুচিত জবাব দেবে জনগণ।" তার এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঢাকা-১১ আসনের বর্তমান ফলাফল পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন, যা রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত, সেখানে একটি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এগিয়ে আছেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মনোনীত বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের চেয়ে ১৪৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।

  • নাহিদ ইসলামের প্রাপ্ত ভোট: ৬২৩টি
  • এম এ কাইয়ুমের প্রাপ্ত ভোট: ৪৭৫টি

ঢাকা-১১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ ও নারী ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও বিশৃঙ্খলা

বাংলাদেশে এই প্রথম সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

  1. মোট প্রার্থী সংখ্যা: ২,০২৯ জন
  2. দলীয় প্রার্থী: ১,৭৫৫ জন
  3. স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৭৪ জন
  4. নারী প্রার্থী: ৮০ জন
  5. নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ: ১১৯টি

এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও, জালভোট দেওয়া হয়েছে ৫৯টি কেন্দ্রে এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি জায়গায়।

নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগ নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, এবং এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ভোটাররা এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন, যেখানে কোনো প্রকার অনিয়ম যেন না ঘটে সে বিষয়ে সতর্কতা জরুরি হয়ে উঠেছে।