দুবাই পুলিশ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করেছে। রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনজীরের দুর্নীতি, ক্রসফায়ার ও গুমের নানা কাহিনি নিয়ে ঝড় শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু
সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, এই গ্রেফতার প্রমাণ করেছে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
দুদকের মামলা ও সম্পদ জব্দ
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ মামলায় প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দুটি মামলার ভিত্তিতে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
আদালতের আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের নামে থাকা শত শত বিঘা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ জুন ৮টি ফ্ল্যাট এবং ২৫ একর ২৭ কাঠা জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং ৩টি বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও দেশত্যাগ
বেনজীর আহমেদ র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মাথায় ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি দেশ ছাড়েন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিনি নিরাপত্তা তল্লাশি ও ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করেন। শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি আওতায় আনা গেলেই পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।



