ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ও ঢাকার ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশে ১৭ জন আটক
রাজশাহী ও ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশে ১৭ জন আটক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ: রাজশাহী ও ঢাকায় ১৭ জন আটক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে দেশের দুই জেলায় ১৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ও ঢাকার সাভার উপজেলা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজশাহীর চারঘাটে চারজন আটক

রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁরা চারঘাট উপজেলার পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আকরামুল ইসলাম বলেন, "রাত আটটার দিকে চারজন কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। তখন আনসার সদস্যরা তাঁদের আটকে দেন। এরই মধ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের অবরুদ্ধ করেন। তাঁদের দাবি—যাঁরা কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন, তাঁরা জামায়াতের কর্মী।"

তিনি আরও জানান, পরে রাত ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে তাঁদের থানায় নিয়ে যান। রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের কারও অনুমতি নেই। তাঁরা অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন। তাই তাদের আটক করা হয়েছে।" তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের চারঘাট থানায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন।

ঢাকার সাভারে ১৩ জন আটক

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় গতকাল রাতে পৃথক দুটি ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। আটকের পর তাঁদের আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নলাম ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করে সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে তাঁদের আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজগর হোসেন বলেন, "সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঢাকা-১৯ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "মূলত এই চারজন না বুঝে কেন্দ্রে এজেন্টের কাগজ আনতে গিয়েছিলেন। এর পরও ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপর একটি কেন্দ্র মূলত কিন্ডারগার্টেন এবং ওই স্কুল ভবনে বাসা আছে। তাঁরা ওই বাসায় যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের উপস্থাপন করা হবে।

এই ঘটনাগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।