জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচনী সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে
জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিল

জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে থাকার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে

জামায়াতে ইসলামী কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা জানান।

নির্বাচনী সহিংসতা ও হামলার অভিযোগ

মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, আঘাত করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে গতকাল রাতে ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে। আমরা ইসিকে বিষগুলো জানিয়েছে, বলেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এর আগেও একটা ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ওই আসনে লিফলেটে কে বা কারা ছেড়েছে, বিকাশে টাকা দেয়া হবে, আপাতত অ্যাডভান্স তো দিলাম। এগুলা কাউকে বলবেন না বলে আবার লিফলেট ছাপানো হয়।’ তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আরেকটা দলকে দেখলাম, কিছু সময় পরে সেই দলের অফিসে এটা নিয়ে ব্রিফিংও করেছে। বলেছে একটা বিশেষ দলের পক্ষ থেকে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এগুলো কাকতালীয়, নাকি একটার সঙ্গে একটা জড়িত।’

নেতার আটক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের একজন জেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতা ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যান, তখন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা দেখেছেন তার সঙ্গে যে ব্যাগ ছিল তাতে টাকা ছিল। যেহেতু এখন ব্যাংকসহ সব অর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাই ব্যবসার কাজে তিনি টাকা নিতেই পারেন আভ্যন্তরীণভাবে। এ নিয়ে আইনে কোনো ব্যত্যয় নাই।

কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছার পর সেখানে পুলিশ কিছু চিহ্নিত সাংবাদিকদের নিয়ে এসে টাকাসহ টাকে আটক করেছেন। আমরা এটাও জেনেছি যে পুলিশ কর্মকর্তা কাজটি করেছেন, প্রখ্যাত মনিরুল ইসলামের সহযোগী হিসেবে তার একটা পরিচিতি আছে। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে নাজেহাল করা হয়েছে, মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে এখন পুলিশ হেফাজতে রংপুর হাসপাতালে রয়েছেন। ইসিকে বলেছি, বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।’

হুমকি ও উসকানির অভিযোগ

কুমিল্লা-৪ আসনে একটা রাজনৈতিক দলের নেতা মারাত্মক হুমকি দিয়েছেন জানিয়ে মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ওই নেতা বলেছেন- তাদের যারা ভোট দেবে না তাদের হাত পা ভেঙে দেবেন। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবেন, তাদের ওপর আক্রমণ করবেন। এমনটা তিনি বলতে পারেন না, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি কথাটা বলতে পারেন না। ইসিকে বলেছি এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এ ধরনের উসকানির কারণে বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে, একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের নেতাকর্মীরা উৎসাহ পাচ্ছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একদল লোক যারা মনে করছে, জনগণের সমর্থন তাদের প্রতি নেই, তারাই এখন ছলে বলে কৌশলে জনগণের সামনে ভিন্নরূপে উপস্থাপনের জন্য এবং আমাদের দলের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটা হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

নির্বাচনী পরিবেশ ও দায়িত্বের আহ্বান

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে হতে যাওয়া নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যে বা যারা কাজ করছেন তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকেন, তাহলে তাদেরও চিহ্নিত করা উচিত। সেইসঙ্গে আইনের মুখোমুখি করা উচিত।

মানুষের মধ্যে যে অসাধারণ স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা গেছে, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। এটিকে রক্ষা করার দায়িত্ব ইসির, সরকারের সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের এবং আমরা রাজনৈতিক দলে যারা আছি তাদের।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জামায়াত সব ধরনের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সবকিছু প্রতিরোধ করবো। সন্ত্রাসীরা চক্রান্তকারীরা অতীতেও পার পায় নাই, এখনো পাবে না।’

বডি ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগ

বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘কিছু আসনে অস্বাভাবিক বেশি। কিছু আসনে কম। যেখানে বেশি সেখানে একটা দলের অবস্থান ভালো থাকাতেই এমনটা কি না সে প্রশ্ন করেছি ইসিকে। আমরা তাদের সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথাও বলেছি। তবে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।’

তিনি শেষে বলেন, ‘একটি সুন্দর শান্তিপূর্ণ উৎসবমূলক পরিবেশে আমরা নির্বাচন দেখতে চাই। এক্ষেত্রে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।