ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটারদের ১৩টি জরুরি প্রশ্ন ও উত্তর
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটারদের ১৩টি প্রশ্ন ও উত্তর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটারদের ১৩টি জরুরি প্রশ্ন ও উত্তর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের প্রাক্কালে ভোটারদের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। গুগল ও সামাজিক মাধ্যমে ভোটাররা ভোট কেন্দ্র, সময়, স্লিপ, মোবাইল ব্যবহার থেকে শুরু করে ফলাফল ও শপথ পর্যন্ত নানা বিষয়ে তথ্য খুঁজছেন। চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেকেই এখনও নিজের ভোট কেন্দ্র সম্পর্কে নিশ্চিত নন। এখানে তুলে ধরা হলো ভোটারদের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তার উত্তর।

১. ভোট কখন শুরু ও শেষ হবে?

বাংলাদেশে আগের নির্বাচনগুলোতে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হতো। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

২. ভোট কেন্দ্র কীভাবে চেক করবেন?

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সুবিধার জন্য অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোট কেন্দ্র নামে অপশনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলেই ভোট কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান ম্যাপে চিহ্নিত করা আছে।

৩. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬ কী?

এটি নির্বাচন কমিশন চালু করা একটি অ্যাপ, যেখানে ১০ বা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই ভোট কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর পাওয়া যাবে।

৪. ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম কী?

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস বা হটলাইন নম্বর ১০৫-এ ফোন করে ভোটার নম্বর বের করা যায়। হটলাইনে ফোন করে ৯ চাপলে অপারেটরের সাথে কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের নাম জানা সম্ভব।

৫. ভোটার স্লিপ কী এবং কেন দেওয়া হয়নি?

ভোটার স্লিপ হলো একটি কাগজ, যাতে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে। সাধারণত স্থানীয় নেতা বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এটি দেওয়া হতো, কিন্তু এটি সরকারি স্লিপ নয়। এবার বেশিরভাগ জায়গায় এই স্লিপ দেওয়া হয়নি, তাই ভোটাররা এটি পাননি।

৬. ভোট কেন্দ্রে সেলফি তুলতে পারবেন কি?

নির্বাচন কমিশন প্রথমে ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে। ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট ও সাংবাদিকরা মোবাইল নিয়ে যেতে ও ছবি তুলতে পারবেন, কিন্তু গোপন কক্ষে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ বা ছবি তোলা নিষেধ। সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই, তাই সেলফি তোলারও সুযোগ নেই।

৭. মুখের নিকাব খুলতে হবে কি?

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসার ভোটারের চেহারা ভোটার তালিকার ছবির সাথে মিলিয়ে দেখবেন। যদি পরিচয় গোপন করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তা প্রমাণিত হলে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।

৮. নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?

নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, জরুরি সেবা ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

৯. ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে কি?

সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয়, তবে মা ভোটার তাকে গোপন কক্ষে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু প্রতীক বোঝার মতো বয়সী সন্তানকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।

১০. গণভোটের ব্যালট কোন বাক্সে ফেলবেন?

সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদাকালো ও গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, দুটি ব্যালট একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।

১১. ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?

ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে উপজেলা, জেলা হয়ে নির্বাচন কমিশনে ফলাফল পৌঁছাবে। গণভোটের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে, তাই অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল শুক্রবার দুপুর বা বিকেল নাগাদ পাওয়া যেতে পারে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

১২. নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?

ভোটগ্রহণের তিন দিন পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ হতে পারে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি বা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।

১৩. এবারের নির্বাচনে কত ভোটার?

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার এবং হিজড়া ভোটার ১,১২০ জন। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তবে আওয়ামী লীগ নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অংশ নিতে পারছে না।