ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামে সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াহাটি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে রাতের আঁধারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে টর্চ জ্বালিয়ে তারা এ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও উত্তেজনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশ ও মৃধা বংশের মধ্যে সংঘর্ষে শেখ শামসুদ্দিন (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার ছেলে শেখ আবুল হাশেম বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কয়েক বছর ধরে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিপক্ষ বাদীপক্ষকে চাপ দিত। ঈদুল ফিতরের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
ঈদের পরদিন বাদীপক্ষের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিপক্ষ বাধা দেয়। এর জের ধরে মুড়াহাটি ও বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মুড়াহাটি গ্রামের পাশে শাহবাজপুর ইউনিয়নের বন্দেরহাটি গ্রামের লোকজনও অংশ নেন। মুড়াহাটি গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়ার্ড সদস্য আরিজ মিয়া, অন্যদিকে বুড্ডা গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ রাকিব উদ্দিন।
আহত পুলিশ সদস্য ও আইনগত ব্যবস্থা
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার, এসআই ফারুক আহমেদ, এএসআই ইউনুছ গাজী, এএসআই সুলতান হোসাইন, এএসআই আরিফিন জাহান। ঘটনার পর পুলিশ এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ১২০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “আগের একটি খুনের ঘটনা থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। এখন এলাকার অবস্থা শান্ত রয়েছে। বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রাম্য বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এটি সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মূল কারণ। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ ঘটনা গ্রামীণ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক ও পারিবারিক বিরোধের জটিলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে। স্থানীয় নেতারা শান্তি বজায় রাখার জন্য সকল পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।



