যশোরের কেশবপুরে পুলিশ হামলার ঘটনায় উত্তেজনা
যশোরের কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে এক উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন। গ্রেফতারের পর মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে মারধর করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে একদল লোক। বৃহস্পতিবার পুলিশ সীমান্ত এলাকা থেকে ওই আসামিকে আবার গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসমত আলীসহ তিন পুলিশ সদস্য বুধবার রাত দেড়টার দিকে হিজলডাঙ্গা গ্রামে আসামি ধরতে যান। ওই গ্রামের আমিনুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৩৫) বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এলাকার একদল লোক মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে মারধর করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ আহত হন। এর মধ্যে শহিদুল ইসলামকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। আহত শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে আসার সময় একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আমার বুকে আঘাত করা হয় এবং হাতের একটি আঙুলও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আহত হওয়ার পরে লোকজন আমার কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়।’
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী অবস্থা
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হিজলডাঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করার পর মসজিদে মাইকিং করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়। বলা হয় ওই আসামিকে পুলিশ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এই খবর শুনে একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।’
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সীমান্ত এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হবে। তদন্তের পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।



