মাদারীপুরে পুনরায় সংঘর্ষ: এক নিহত, উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে
মাদারীপুরে সংঘর্ষে নিহত ১, উত্তেজনা ছড়িয়েছে

মাদারীপুরে পুনরায় সংঘর্ষ: এক নিহত, উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে

মাদারীপুর পৌর শহরের লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় নতুন মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় আবারও উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাসান মুন্সি ও আখতার হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার সকালে দুপক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হন আলমগীর হাওলাদার। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে রোববার রাতেও একই এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দফায় দফায় অর্ধশতাধিক হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বোমার বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপত্তার জন্য ঘরের ভেতর অবস্থান নেয়।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, এর আগে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সংঘর্ষে হাসান মুন্সির ভাই শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, বোমাবাজি ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকালের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এই সংঘর্ষের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।