চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণ, পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও হামলা
চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি, পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও হামলা

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাসায় সশস্ত্র হামলা, পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও গুলিবর্ষণ

চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার সকালে এই হামলার শিকার হন স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। পলাতক অপরাধী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা ৫ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানুয়ারিতে একই বাসায় আগের হামলার পর থেকে পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চাঁদার দাবি ও হুমকির ইতিহাস

মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পলাতক অপরাধী সাজ্জাদ আলী প্রথমে তার কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে এই দাবি কমিয়ে ৫ কোটি টাকায় নিয়ে আসেন। চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তার বাসায় হামলা চালিয়ে জানালা ও দরজা গুলিবিদ্ধ করে। সেই ঘটনার পর থেকে তার বাসায় পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ভোরেও একই বাসায় আবার হামলা চালানো হয়।

মোস্তাফিজুর আরও উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ দিন আগে তিনি একটি হুমকিমূলক হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পেয়েছিলেন। সেই মেসেজে লেখা ছিল: “অপেক্ষা করো, দেখবে।” শনিবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে মাস্ক পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে তার বাসার পেছনের দিকে ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তদন্ত

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন মাস্ক পরা ব্যক্তি বাসার দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে একজন দুইটি পিস্তল বহন করছেন। বাকি তিনজন যথাক্রমে একটি সাবমেশিন গান (এসএমজি), একটি চীনা রাইফেল এবং একটি শটগান বহন করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দূরত্বে গাড়ি পার্ক করে পায়ে হেঁটে বাসার কাছে যায় এবং গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক অপরাধী সাজ্জাদ আলী, যিনি “বড় সাজ্জাদ” নামে পরিচিত, তার সম্পৃক্ততা সন্দেহ করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, সাজ্জাদের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যাদের মধ্যে মোহাম্মদ রাইহান ও বোরহানের নাম উল্লেখযোগ্য, এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা চলছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে মামলা দায়ের করা হবে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও হামলা হয়েছে।

সাজ্জাদ আলীর অপরাধ জগত

সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। ১৯৯৯ সালে একজন কাউন্সিলর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রথমবারের মতো কুখ্যাতি অর্জন করেন। পরে ২০০০ সালে বাহাদ্দারহাটে “আট হত্যা” মামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তার নাম উঠে আসে, তবে প্রমাণের অভাবে তিনি খালাস পান। ওই বছরই একটি একে-৪৭ রাইফেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি জামিন নিয়ে ২০০৪ সালে দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

সেই সময় থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি বিদেশ থেকে একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ খান নামে তিনি ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। তার নেটওয়ার্ক শহরের বিভিন্ন থানা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় চাঁদাবাজি ও চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে ধারণা করা হয়। শনিবারের হামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।