রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের ঘটনায় থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
মারধরের ঘটনা
বুধবার রাতে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধর করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। এ ঘটনায় থানার ওসি এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সদস্যদের ক্লোজড
ঘটনার পরই কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, এসআই মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন ও কনস্টেবল বাসুদেবকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি
এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে আরএমপি। কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা (প্রশাসন-অর্থ), সদস্য ডিসি ক্রাইম মাহফুজুর রহমান ও এসি কোতোয়ালি সুকুমার রায়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে কোনো উসকানি ছাড়াই থানার ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, একটি বিষয়ে আপত্তি জানাতে গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন; এতে তিনি আহত হন।
পটভূমি
ঈদের তিন দিন পূর্বে নগরের সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তাদের উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। ওই দুজনের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। লাভলু নামের এক নেতার ডাকে থানায় যান নেতা রাকিবুল ইসলাম।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, এ নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জীম অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে কোতোয়ালি থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি
বুধবার রাত আড়াইটার দিকে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রংপুর মহানগর পুলিশ। সেখানে বলা হয়েছে- বিএনপির এক নেতাকে থানায় আটক রেখে নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নির্দেশে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।



