গাজীপুরে নৈশপ্রহরীর বাড়িতে লুট-খুন: পুত্রবধূসহ তিনজন গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি
গাজীপুরে লুট-খুনে পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

গাজীপুরে নৈশপ্রহরীর বাড়িতে লুট-খুনের মর্মান্তিক ঘটনা: পুত্রবধূসহ তিনজন গ্রেপ্তার

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় এক নৈশপ্রহরীর বাড়িতে সংঘটিত লুট ও খুনের মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির পুত্রবধূও রয়েছেন। এ ঘটনায় দুজন আসামি ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যা অপরাধের চাঞ্চল্যকর দিকগুলো উন্মোচন করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত মঙ্গলবার রাতে পিরুজালী এলাকার আনিসুর রহমানের বাড়িতে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এ সময় আনিসুর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তার (৫৫) বাধা দেওয়ায় তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে পুত্রবধূ আরিফা আক্তারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে নাজমুল সাকিব স্থানীয়ভাবে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে তাঁরা কর্মস্থলে যাওয়ার পর বাড়িতে ছিলেন আসমা আক্তার, আরিফা আক্তার ও একটি চার বছর বয়সী শিশু। পরদিন সকালে নাজমুল সাকিব বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে বাঁধা ও অচেতন এবং মাকে নিথর দেহ দেখতে পান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশের দ্রুত তদন্তে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার (২২), মো. উজ্জ্বল (৪৬) ও শাহনাজ বেগম (৪৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে মো. উজ্জ্বল ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরিফা আক্তার টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন, শাহনাজ বেগমের প্ররোচনায় তিনজন মিলে শাশুড়ি আসমা আক্তারকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আরিফাকে হাত-পা বেঁধে অচেতন হওয়ার ভান করতে বলা হয় ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে স্বীকারোক্তি ও উদ্ধারকৃত মালামাল

গ্রেপ্তারকৃত আসামি উজ্জ্বল ও আরিফা আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তদন্তে লুট করা ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে।