ঝিনাইদহ পৌরসভার জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ১৯টি দোকান, আইনি জটিলতায় সুপারমার্কেট নির্মাণ বন্ধ
ঝিনাইদহ পৌরসভার জমি দখল করে ১৯ দোকান, সুপারমার্কেট বন্ধ

ঝিনাইদহ পৌরসভার জমি দখল করে ১৯টি দোকানের উত্থান, সুপারমার্কেট নির্মাণ স্থবির

ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক পৌর পার্ক জমিতে একটি চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে ১৯টি দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই দখল কার্যক্রম শুরু হয়ে এখনো অব্যাহত রয়েছে। দখলদাররা কেউ দোকান ভাড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজেরাই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

দখলকৃত জমির বর্তমান অবস্থা

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার প্রধান ফটকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে দুটি পৃথক সারিতে ইটের গাঁথুনি ও টিনের চালার ১৯টি দোকান চকচক করছে। এই দোকানগুলোর পেছনেই অবস্থান করছে নির্মাণাধীন ছয়তলা পৌর সুপারমার্কেট, যা বর্তমানে জলাবদ্ধ ডোবায় পরিণত হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় সেখানে পানি জমে থাকার কারণে এলাকাটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

সুপারমার্কেট নির্মাণের ইতিহাস ও আইনি জটিলতা

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের যৌথ অর্থায়নে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পটিতে কিডস জোন, উদ্যোক্তা কর্নার, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মিনি আইটি পার্ক, আধুনিক গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং নারী উদ্যোক্তা কর্নারসহ নানা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ভবন নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার ফলে ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ২০২১ সালে আদালত পার্কের জায়গা থেকে সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দখলকারীদের কার্যক্রম ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফাঁকা পড়ে থাকা জায়গার সামনের অংশ ৫ আগস্টের পর দখল করে সেমি পাকা ঘর তুলে দোকান নির্মাণ করা হয়। পুরোনো ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলে এসব দোকান গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ী রাজন মিয়া জানান, তিনি ওসমান গনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকায় ঘর নিয়ে ব্যবসা করছেন এবং মাসে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছেন। বাঘাট ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুব্রত ঘোষ বলেন, আগে এই স্থানে তাঁদের ঘর ছিল এবং নতুন করে ঘর নির্মাণ করে নিয়েছেন, তবে পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। আরেক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম পাঁচ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ঘরটি নিয়েছেন এবং আমিনুল ইসলামকে মাসিক ভাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

পৌরসভার প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ খান বলেন, ‘নতুন মার্কেট নির্মাণের প্রয়োজনে পুরোনো মার্কেট ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল, পুরোনো ব্যবসায়ীরা নতুন মার্কেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান পাবেন; কিন্তু আইনি জটিলতায় আমরা নির্মাণ করতে পারিনি। সেই সুযোগে একশ্রেণির মানুষ জায়গাটি দখল করে নিজেরাই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।’ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাক আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের পর জায়গাটি দখল হওয়ার সময় আমরা রোধ করার চেষ্টা করেছি; কিন্তু রোধ করতে পারিনি। তবে তাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয় না।’

এই পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহ পৌরসভার জমি দখল ও সুপারমার্কেট নির্মাণের স্থবিরতা স্থানীয় ব্যবসা ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।