যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: ফরিদপুরে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: ফরিদপুরে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. নাছের ঠাকুর (৪০) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায় ও শাস্তি

আদালত শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই নয়, বরং ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও আরোপ করেছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

নিহত স্বপ্না বেগমের (২৫) বাবার বাড়ি একই উপজেলার দাড়িরপাড় গ্রামে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মো. নাছের ঠাকুর ও স্বপ্না বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এক লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ তিনি স্বপ্নাকে মারধর করেন এবং সন্ধ্যায় নিজের বসতঘরে ওড়না দিয়ে প্যাঁচিয়ে হত্যা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় স্বপ্নার বড় ভাই মো. আলী শেখ (৩৯) মধুখালী থানায় নাছের ঠাকুরসহ চার ভাইকে সহযোগী আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মধুখালী থানার এসআই আব্দুর রব। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, "ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিছুটা দেরি হলেও প্রমাণ হলো, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। এতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলো।" এই মামলাটি নারী নির্যাতন ও যৌতুকের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনাটি সমাজে যৌতুক প্রথার ভয়াবহতা এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আদালতের এই রায় আশা করা যায় যে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে।