বিসিবির বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে কোয়াবের সাধুবাদ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি দেশের পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এবং মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দেশের ক্রিকেটে অগ্রগতিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।’
নারী ক্রিকেটারদের জন্য উল্লেখযোগ্য উন্নতি
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে:
- প্রতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়রা এখন ১০ হাজার টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা।
- প্রতি ওয়ানডের জন্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আগে যা ৫ হাজার টাকা ছিল।
- বড় ফরম্যাটের জন্য ম্যাচ ফি ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া, নারীদের ঘরোয়া ক্রিকেটে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হয়েছে এবং মাসিক বেতন ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি
পুরুষদের ঘরোয়া ক্রিকেটে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যা সামান্য বেড়ে ১০০ থেকে ১০২ হয়েছে। সব বিভাগেই বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
- ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা প্রতি মাসে ৬৫ হাজার টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ২৮ হাজার ৭শ ৫০ টাকা।
- ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ৫০ হাজার টাকা পাবেন, আগে যা ছিল ২৩ হাজার টাকা।
- ‘সি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ৪০ হাজার টাকা পাবেন, আগে যা ছিল ১৭ হাজার ২৫০ টাকা।
পুরুষদের প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। খেলোয়াড়রা এখন প্রতি ম্যাচে ১ লাখ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। সংশোধিত বেতন কাঠামোটি এপ্রিলে চালু হলেও জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
কোয়াবের আশা ও সমর্থন
কোয়াবের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই উদ্যোগের ফলাফল খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। কোয়াব আরও আশা করে, বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দেশের ক্রিকেটের জন্য এমন সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। দেশের ক্রিকেট সংক্রান্ত যেকোন ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে কোয়াব সবসময় সমর্থন করবে।’ গত মঙ্গলবার নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গতকাল দ্বিতীয়বারের মত বৈঠক করে এবং দ্বিতীয় বৈঠকেই এই বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়।
এই সিদ্ধান্তটি দেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কোয়াবের এই সমর্থন ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।



