দিনাজপুরে শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা: চাচাতো ভাইয়ের হাতে নৃশংস মৃত্যু
দিনাজপুরে শিশু হত্যা: চাচাতো ভাই আটক, সম্পত্তির লোভে হত্যা

দিনাজপুরে শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা: চাচাতো ভাইয়ের হাতে নৃশংস মৃত্যু

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশু সিরাজুল আল শামসের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার আপন চাচাতো ভাই আমানুর ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি শুক্রবার রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে সংঘটিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

শিশুটির মা শাম্মী আক্তার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আমানুর ইসলাম তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ছেলে দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফিরলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। রাত নয়টার দিকে বাড়ির পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘাতকের বাড়ির সামনের অংশের সম্পত্তি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিহত শিশুর বাবা কিছুদিন আগেই ক্রয় করেন। এছাড়া, চাচার আর্থিক অবস্থা তাদের চেয়ে ভালো থাকায় আমানুর ইসলাম সম্পত্তির লোভে এই হত্যার পরিকল্পনা করে।

হত্যার পদ্ধতি ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আমানুর ইসলাম শুক্রবার রাতে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে নামাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির অদূরে একটি মাদ্রাসা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মাদ্রাসার দেয়াল ঘেঁষে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়। শিশুর মরদেহ ভুট্টা ক্ষেতেই রেখে আমানুর ইসলাম বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে।

দীর্ঘ সময় শিশু না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং ভুট্টার ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনার পর রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমানুর ইসলাম, তার বাবা মজিদুল ইসলাম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমানুর ইসলাম শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হলেও অন্য দুজনের সম্পর্ক না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় প্রভাব

নিহত শিশু শামস উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আমানুর ইসলাম একই এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া পড়েছে। শিশু হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা গ্রামীণ সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।