গাইবান্ধায় স্কুলশিক্ষিকা শামসুন্নাহার রুমার হাত-পা বেঁধে হত্যা, ধর্ষণ সন্দেহ
গাইবান্ধায় স্কুলশিক্ষিকার হাত-পা বেঁধে হত্যা, ধর্ষণ

গাইবান্ধায় স্কুলশিক্ষিকার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ সন্দেহে তদন্ত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার একটি বাসা থেকে শামসুন্নাহার রুমার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হত্যার বীভৎস দৃশ্য

লাশ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, রুমার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে এবং গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল, যা শ্বাসরোধ করে হত্যার ইঙ্গিত দেয়। তিনি চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের সোলাইমান আলী মাস্টারের মেয়ে ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও পূর্ববর্তী ঘটনা

পুলিশ ও প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রুমা তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার মালিকানাধীন বাসায় বসবাস করছিলেন। পড়াশোনার কারণে ছেলে ঢাকায় থাকায় তিনি একাই বাস করতেন, যা সুযোগ নিয়ে তার বাড়িতে কয়েকবার চুরির ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যার শিকার এই নারীর সঙ্গে কারো পরকীয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে, কারণ হত্যাকারীরা বিনাবাধায় শেষ রাতে বাড়িতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, হত্যার মোটিভ নিয়ে পুলিশের ক্রাইমসিন কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কারণ জানা যায়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে হত্যাকারীরা রুমার পরিচিত হতে পারে, যারা বিনা বাধায় দরজা খোলা পেয়ে ঘরে ঢুকেছে। ঘটনাস্থলে তার ঘরের ডিপ ফ্রিজের উপর দুটি কনডম পাওয়া গেছে, যদিও পুলিশ মনে করে হত্যাকারীরা ঘটনা আড়াল করতে এগুলো রেখে যেতে পারে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় সম্প্রদায় স্তম্ভিত, এবং পুলিশ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে, এবং আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।