গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: তারাবিহ পড়তে গিয়ে পোড়া লাশ উদ্ধার
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা, তারাবিহ পড়তে গিয়ে পোড়া লাশ

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুল হোসেন রনি। শুক্রবার রাতে তারাবিহর নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

নিহত মাহাবুল হোসেন রনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। তিনি খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার একটি বাড়িতে তার পরিবার বসবাস করে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পাশের একটি মসজিদে তারাবিহ পড়তে বাসা থেকে বের হন মাহাবুল। তারাবি শেষ হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা সকাল থেকে আবারও অনুসন্ধান শুরু করে।

লাশ উদ্ধার ও তদন্ত

শনিবার সকালে ভবানীপুর এলাকায় একটি হোটেলের পেছনে ঝোপের ভেতর রনির পোড়া লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করে। জয়দেবপুর থানা পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের বাবা সোহাগ মিয়া বলেন, "আমার ছেলে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। আমি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। কারো সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ নেই। তাহলে কারা আমার ছেলেকে হত্যা করল? আমি তো কারো ক্ষতি করি নাই।"

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাকে হত্যার কারণ এখন পর্যন্ত খোঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কাজ চলমান আছে।

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ ও নাগরিক সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।