ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলেন বাবা, পরে ৯৯৯-এ ফোন করে আত্মসমর্পণ
ঝালকাঠিতে বাবা কর্তৃক মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা, ৯৯৯-এ ফোন

ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলেন বাবা, পরে ৯৯৯-এ ফোন করে আত্মসমর্পণ

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক মাদকাসক্ত ছেলেকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছেন তার নিজের বাবা। হত্যার পর তিনি নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত বাবা আব্দুল বারেক খান (৫৫) কে আটক করে। কাঠালিয়া থানার ওসি মো. নাসের রহমান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসান শুভ (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।

নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করতেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গেও নানা রকম ঝামেলায় জড়াতেন। এতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও অস্বস্তি বিরাজ করছিল।

হত্যার পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ

ঘটনার আগের দিন সকালে শুভ বাবার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে একটি দা কিনে বাড়িতে ফেরেন এবং টাকা না দিলে মা-বাবাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেন।

বিষয়টি মা খুশি বেগম স্বামীকে জানালে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। এরপর ভোররাত ৪টার দিকে আব্দুল বারেক খান ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলেকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানান।

পুলিশের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা

খবর পেয়ে কাঠালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা খুশি বেগম বাদী হয়ে স্বামী আব্দুল বারেক খানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মো. শাহ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর সার্কেল)। তিনি বলেন, "নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। ঘটনার রাতে তিন লাখ টাকা দাবি করে বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দেন। এতে আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে বাবা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেহেদী হাসান শুভের মাদকাসক্তি ও অসহিষ্ণু আচরণ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অশান্তির কারণ ছিল। পরিবারটি নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আব্দুল বারেক খানকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। এলাকাবাসী এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।