কলাবাগানে যুবকের মৃত্যু: স্ত্রীর পরিবারের ধাওয়ার অভিযোগ
রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রীর পরিবারের ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শহিদুল ইসলাম (২৫) নামের এই যুবক শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেমের সম্পর্ক ও পালিয়ে বিয়ে
সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলামের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের হাসি (১৪) নামে এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসেন এবং কলাবাগানে শহিদুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে রফিকুল ইসলাম তাদের উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এই বিয়ের খবর পেয়ে মেয়ের পরিবার রফিকুলের বাসার নিচে এসে অবস্থান নেয়।
ধাওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা
শনিবার শহিদুল বাসার নিচে নামলে মেয়ের পরিবারের সদস্যদের দেখতে পান। এ সময় ‘খালু শ্বশুর’ তাকে পিছু নিলে শহিদুল ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি লাফ দিয়ে পাশের একটি ভবনে যান। পরে দ্বিতীয় ভবনটি পার হওয়ার সময় নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
কলাবাগান থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফেসবুকে হাসির সঙ্গে শহিদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যুবকের পরিচয়
শহিদুল ইসলাম ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার দক্ষিণ মাঝপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। তিনি কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে একটি বাসায় থাকতেন। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
