পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হলো। একইসঙ্গে আগামী ১৩ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ
রোববার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন। এদিন দুদকের পক্ষে আইনজীবী আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
দুদকের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য
দুদক জানিয়েছে, বেনজীর ও তার পরিবারের নামে ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি বিও হিসাব পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।



