‘ফুটবল যখন সবচেয়ে সুন্দর রূপে পৃথিবীর সামনে আসে, তখন আমি শুধু সেই মহিমায় মুগ্ধ হয়ে থাকি। সে সৌন্দর্য কোন দল সৃষ্টি করল, আমি তার পরোয়া করি না’—উরুগুয়ের লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানোর এই কথাগুলো যেন সত্যি হয়ে উঠল চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ফুটবলের এক জীবন্ত উদাহরণ, যেখানে গোল, পাস আর মুহূর্তগুলো মিলে গড়ে তুলল এক অনন্য সুখের ভাষা।
ম্যাচের বিবরণ
প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের সমর্থকেরা বিশাল তিফো তুলে ধরে মহারণের আবহ তৈরি করেন। পিএসজির ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইউরোপ জয়’, আর অতিথিদের বার্তা ছিল ‘সবকিছু উজাড় করে দাও।’ দুই দলই ৯০ মিনিট ধরে নিজেদের উজাড় করে খেলেছে। প্রথমার্ধেই দেখা গেল ৫টি গোল। অবিশ্বাস্য ও রুদ্ধশ্বাস ফুটবল যেন তূরীয় আনন্দে ভাসিয়ে নিচ্ছিল বারবার। অনেক ফুটবল–পণ্ডিত এই অর্ধকে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ৪৫ মিনিটের স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গোলের বন্যায় ভাসল মাঠ
পিএসজির হয়ে জোড়া গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে ও খিচা কাভারাস্কেইয়া। বায়ার্নের হয়ে গোল পেয়েছেন হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াজ। প্রথমার্ধে শুরু হওয়া ঝড় থামেনি বিরতির পরও। পিএসজির ডাবলের জবাবে বায়ার্নের ডাবল। এই ম্যাচে যাদের জ্বলে ওঠার কথা ছিল, একে একে জ্বলে উঠেছেন সবাই। ৫-২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৬৮ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি বায়ার্ন।
কোচ ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার অ্যামাজন প্রাইমে বলেন, ‘আমি এই ম্যাচের খেলা দেখে হাসি থামাতে পারছি না। এটা একেবারে পাগলাটে, উন্মুক্ত ফুটবল। আমার দেখা সেরা ম্যাচগুলোর একটি।’ পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে এটাকে ক্যারিয়ারের ‘সেরা ম্যাচ’–এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, ‘আমরা ভুগেছি, কিন্তু বিপজ্জনকও ছিলাম। এখানে ডিফেন্স আর আক্রমণের পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম।’ ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি বলেন, ‘আমি হ্যারি কেইনকে ভালোবাসি, কিন্তু ডিফেন্ডারদের প্রশংসা করার কোনো সুযোগ নেই। দুই দলেরই ডিফেন্ডিং ছিল সত্যিই দুর্বল।’
ফিরতি লেগের সম্ভাবনা
দুই লেগের ম্যাচটি একপর্যায়ে বায়ার্নের জন্য প্রথম লেগেই শেষ হওয়ার পথে ছিল। কিন্তু দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জার্মান ক্লাবটি। এখন ফিরতি লেগে বায়ার্ন ঘরের মাঠে আগে গোল পেলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতাও চলে আসবে। ফলে প্রথম লেগে প্রত্যাবর্তনের রসদ নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাভারিয়ান ক্লাবটি।
শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিট ধরে হতে থাকা সফলতা ও ব্যর্থতার ছোট ছোট গল্প মিলিয়েই লেখা হয়েছে ফুটবলের অনবদ্য এই উপাখ্যান। যে উপাখ্যান চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর তালিকায় জ্বলজ্বল করবে আরও অনেক দিন।



