স্টারমারের পদত্যাগ: বার্নহামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়া ঠেকাতে চ্যালেঞ্জার
স্টারমারের পদত্যাগ: বার্নহামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিএম হওয়া ঠেকাতে চ্যালেঞ্জার

যুক্তরাজ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী না হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার কথা ভাবছেন লেবার পার্টির অন্তত দুজন জ্যেষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি)। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস বলেছেন, তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে ভাবছেন। কিয়ার স্টারমার সরকারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনসও চ্যালেঞ্জ ছোড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলে বিবিসি নিউজ জানতে পেরেছে।

স্টারমারের পদত্যাগ ও নতুন নেতা নির্বাচন

গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এমন অবস্থায় লেবার পার্টির অনেক এমপি মনে করছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিনই অ্যান্ডি বার্নহাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন। তবে তাঁর এভাবে জয়ী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে মেনে নিতে পারছেন না কেউ কেউ।

এমন অবস্থায় এমপিদের কেউ কেউ স্টারমারের সহযোগী ড্যারেন জোনসকে প্রার্থী হতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হলেও জোন্স এখনো প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী আল কার্নসও শীর্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ইস্যুতে চলতি মাসের শুরুতে সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী হিসেবে তিনি পদত্যাগ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আল কার্নসের বক্তব্য

আইটিভির পেস্টন অনুষ্ঠানে আল কার্নস বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনোভাবেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নই।’ আল কার্নস আরও বলেন, ‘আমাদের এমন রাজনীতি দরকার, যা কৌশলগত চিন্তার খোরাক জোগাবে, কেবল কৌশলগত রাজনৈতিক চাল নয়। আমি ২০২৯ ও ২০৩৪/৩৫ সালকে লক্ষ্যে রেখে বড় ধরনের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বার্নহামের অবস্থান

গতকাল পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনে সময়সীমা নির্ধারণ করতে লেবার পার্টির গভর্নিং বডিকে বলেছেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন শুরু এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে।

অনেকেই মনে করছেন, গত সপ্তাহের মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে রিফর্ম ইউকের প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে বড় জয়ের পর অ্যান্ডি বার্নহাম এখন কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র গতকাল সোমবার হাউস অব কমন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে বার্নহাম বলেছেন, তিনি লেবার পার্টির দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় প্রার্থী হবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিক্রিয়া

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে বার্নহামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে স্ট্রিটিং দ্রুতই বার্নহামকে সমর্থন জানিয়েছেন। এতে বার্নহামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে। দলের অনেকের মতো রাগবি আসনে লেবার পার্টির এমপি জন স্লিঙ্গারও মনে করেন, দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া প্রয়োজন।

গতকাল বিবিসির দ্য ওয়াল্ড টুনাইট অনুষ্ঠানে জন স্লিঙ্গার বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় পদে যেতে চাওয়া মানুষদের যথাযথভাবে যাচাই করার মতো কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি আমরা না যাই, তাহলে আমার মনে হয়, সাধারণ মানুষ ভাববে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

অন্যান্য দলের প্রতিক্রিয়া

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক লেবার পার্টির নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘লেবার এমপিরা শুধু বেশি কর বসাতে চায়, যেন আরও বেশি ভাতা দেওয়া যায়। এগুলো লেবার পার্টির সিদ্ধান্ত এবং তাদের মূল্যবোধ, দলের নেতৃত্বে কে আছে, তা কোনো বিষয় নয়।’

লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের জনগণ বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলের এই চক্রে বিরক্ত। সেখানে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয় না।’ রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ একটি সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘লেবাররা যদি মনে করে, আবারও একজন “পেশাদার রাজনীতিক”–কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বসাবে, তাহলে তারা ভুল করবে।’ গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, মানুষ আশা করছে, অ্যান্ডি বার্নহাম বড় পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।