ঢাকার একটি আদালত চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি বাতিল করেনি। বরং এ সংক্রান্ত বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। ফলে লাশ উত্তোলনের আগের আদেশ বহাল রয়েছে। তবে আদালতে প্রথমে আদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম ও তার আইনজীবী।
আদালতে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিল চেয়ে আবেদন করেন বাদীপক্ষ। আদালতের আদেশ ঘোষণার পর প্রথমে ধারণা করা হয় আবেদনটি মঞ্জুর হয়েছে। পরে জানা যায়, আদালত আবেদনটি কেবল নথিভুক্ত করেছেন।
রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম বলেন, আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন। তবে আদেশ বুঝতে ভুল হওয়ায় সেটিকে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তদন্তাধীন মামলায় বাদীপক্ষের এমন আবেদন আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাদীপক্ষের অসন্তোষ
এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বলেন, "প্রকাশ্য আদালতে বিচারকের সামনে আদেশ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সেটি নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়, যা তার কাছে বোধগম্য নয়।" বিচার বিভাগের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার বাদী ও সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম দাবি করেন, তিনি নিজ কানে আদালতকে আবেদন গ্রহণ করতে শুনেছেন। পরে আদেশের ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
লাশ উত্তোলনের বিরোধিতায় যুক্তি
আবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন দশক আগে দাফন হওয়া লাশ থেকে বর্তমানে কোনো কার্যকর দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ১৯৯৭ সালে একবার লাশ উত্তোলনের সময়ও অতিমাত্রায় পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে আদালত সিআইডির আবেদনের পর সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেন। আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশও দেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। পরে তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহের লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে আলোচিত এ মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক তদন্ত হলেও রহস্যের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।



