ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সফরের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এটি নতুন করে কোনো আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নয়। বরং বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অপর পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে কি না, তা মূল্যায়ন করাই প্রতিনিধি দলের প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনার এজেন্ডা
আলোচনায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তেহরান বলছে, চূড়ান্ত কোনো চুক্তির দিকে এগোতে হলে আগে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের অবস্থান: 'প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি'
সফরের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এই সফরকে আলোচনার দ্বিতীয় ধাপের সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান 'প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি' নীতির ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, সব পক্ষ তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলেই কেবল পরবর্তী অগ্রগতি সম্ভব। বাঘেই আরও বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা ইরানকে সতর্ক করেছে এবং কোনো চুক্তির প্রকৃত পরীক্ষা হলো তার বাস্তবায়ন।
অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সমঝোতা স্মারকের অধীনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা বিদ্যমান শর্ত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতাকে তারা যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, যা কূটনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা
আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গালিবাফের সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা আলি বাঘেরি কানি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি এবং তেল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গালিবাফের বক্তব্য
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছে গালিবাফ বলেন, তিনি ইরানের শহীদ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন এবং আলোচনায় দেশের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিনিধি দল সফল হবে বলে আশা করেন। তিনি আরও বলেন, এই আলোচনা থেকে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল নিয়ে ফেরাই তাদের লক্ষ্য।



