২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ব্রাজিল ও জার্মানির মধ্যকার ম্যাচটি এখনো ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচগুলোর একটি। সেদিন ব্রাজিলের মাটিতে স্বাগতিক দলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয় জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মান আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ব্রাজিল। প্রথম ২৯ মিনিটের মধ্যে ৫ গোল করে ফেলে জার্মানি।
প্রথমার্ধে ৫ গোলের কাণ্ড
ম্যাচের ১১তম মিনিটে টমাস মুলারের গোল দিয়ে শুরু হয় জার্মানির গোল উৎসব। এরপর ২৩, ২৪, ২৬ ও ২৯ মিনিটে পরপর চারটি গোল করেন মিরোস্লাভ ক্লোসা, টনি ক্রুস ও সামি খেদিরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই জার্মানি ৫-০ গোলে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি আরও দুটি গোল করে এবং একটি গোল হজম করে।
জার্মান খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত
জার্মানির সেই বিজয়ী দলের সদস্য ম্যাটস হামেলস পরে জানান, বিরতির পর তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আর জাদুকরি ফুটবল না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হামেলস বলেন, ‘আমরা শুধু চেয়েছি খেলায় মনোযোগী থাকতে। খেলার মধ্যে সেলেসাওদের কোনোভাবেই অপমান করতে চাইনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, খেলার মধ্যে সিরিয়াস থাকতে হবে। তবে ব্রাজিলকে অপমান করা হয়, এমন কিছু থেকে বিরত থাকব। খেলার মধ্যে জয়-পরাজয় থাকবে। তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখাতে হবে। আমরা সে কাজ করেছি। দ্বিতীয়ার্ধের পর আমরা কোনো জাদুকরি খেলা দেখাইনি।’
ম্যানেজারের নির্দেশনা
সেই সময় জার্মানির ম্যানেজার অলিভার বেয়ারহফ জার্মান টিভি নেটওয়ার্ক এআরডিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অন্তত কিছু সময়ের জন্য এটি অপমানজনক ছিল। বিরতির সময় আমরা খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, ফলাফলের দিকে শ্রদ্ধাশীল হতে। কোনোভাবেই ব্রাজিলকে উপহাস না করতে। আমরা খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, শুধু মাঠে থেকে খেলা শেষ করতে। আমাদের খেলোয়াড়েরা তা–ই করেছে। স্বাগতিক হওয়ার চাপ কী, সেটা আমরা দেখেছি ২০০৬ বিশ্বকাপে। সেই চাপ আমরা ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছিলাম। দর্শকেরাও নিশ্চয়ই সেই চাপ দেখেছে।’
ম্যাচ শেষে সান্ত্বনা
৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১। খেলার শেষে জার্মান খেলোয়াড়রা ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা দেন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এটি ছিল সর্বকালের সবচেয়ে বড় জয়। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অস্কার। তবে অস্কারের গোলের কিছুক্ষণ আগে মেসুত ওজিল একটি গোল মিস করলে ব্যাপারটি আরও খারাপ হতে পারত।
হামেলসের সহানুভূতি
ম্যাটস হামেলস আরও বলেন, ‘আমি ব্রাজিলের জন্য করুণা করিনি। তবে আমি তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিলাম। আমরা ঠিকভাবে খেলা চালিয়ে গেলেও তাদের ঠাট্টা করিনি।’
দ্বিতীয়ার্ধের গোল ও কৌশল
বিরতির পর ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে আরও দুটি গোল দেয় জার্মানি। আরও একটি গোল অল্পের জন্য হয়নি। ফলে জার্মানদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অন্যভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, বিরতির আগেই ৫ গোল খেয়ে ব্রাজিলের ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত ছিল। তাই জার্মানি বেশি আক্রমণ না করে স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যায়, যাতে প্রতিপক্ষকে করুণা করা হচ্ছে বলে মনে না হয়।
পরবর্তী বিশ্বকাপে ব্রাজিল
২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুর্দশার পর ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল খুব ভালো করতে পারেনি। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে তারা দারুণ ছন্দে আছে। যদিও ব্রাজিল স্কোয়াডে অনেকেই ইনজুরির কবলে পড়েছেন, কিন্তু বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও দারুণ শক্তিশালী। তাই ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।



