ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা শাসন পরিবর্তনে জড়াবে না জার্মানি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে তার দেশ অংশ নেবে না এবং দেশটিতে শাসন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগকেও সমর্থন করবে না। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বার্লিনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ঘোষণা দেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ইরানের জনগণের হাতেই থাকবে
ওয়াডেফুল উল্লেখ করেছেন যে, জার্মানি ইরানে একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চাইলেও সেই পরিবর্তন অবশ্যই ইরানের জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে। তিনি বলেন, "জার্মানি এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। একইভাবে ইরানসহ কোনো দেশেই শাসন পরিবর্তনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপেও আমরা অংশ নিচ্ছি না।" এই বক্তব্যে জার্মানির নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায়
রক্ষণশীল এই রাজনীতিক আরও জানান যে, জার্মানি ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং দেশটির জনগণের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের বিরোধিতা করে তাদের পাশে রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। ওয়াডেফুলের মতে, শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণই তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার অবস্থায় পৌঁছাবে এবং হয়তো এই শাসনব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে পারবে, কিন্তু জার্মানির পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
ইরানের হামলার নিন্দা ও আঞ্চলিক হুমকি
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তেহরানকে এসব হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। ওয়াডেফুল সতর্ক করে বলেন, ইরানের হামলা শুধু উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধেই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সাইপ্রাসের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তুরস্ক ও আজারবাইজানের দিকেও হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহকর্মী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ও এর পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জার্মানির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
