আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনসিপির
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনসিপির

আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় কারচুপির অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স।

শুক্রবার (১ মে) অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের সই করা বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভেতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এগুলো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।”

এতে আরও বলা হয়, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো যে— নীল প্যানেল অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে বিভিন্ন অনিয়ম, কারচুপি ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল, তারাই আজ একই কায়দায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

এতে উল্লেখ করা হয়, “২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের অন্যতম মূল আকাঙ্খা ছিল যে— গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। কিন্তু এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচন জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি ছাড়া কিছুই না।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স দৃঢ়ভাবে দাবি জানায় যে, “জাল ভোট, বুথ টেম্পারিং, এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আইনজীবী সমাজের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকে।”

প্রসঙ্গত, ঢাকা বারের নির্বাচনে সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খানসহ ২৩টি পদের সবকটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছে।