যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ এবং ‘হুমকিমূলক বক্তব্য’ পরিহার করে, তবে ইরান এখনো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের এই অবস্থানের কথা জানান।
কূটনৈতিক বার্তা
তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ফোনালাপের পর আরাগচি এই বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়, তবে তা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে।
শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব
টেলিগ্রাম পোস্টে আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমেরিকান পক্ষ যদি তাদের সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে, তবেই ইরান কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে প্রস্তুত।” তবে কূটনীতির প্রস্তাব দিলেও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করতে আমরা দৃঢ় ও সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত।”
প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পর আরাগচির এই বক্তব্য এলো। ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে ‘অসংগঠিত’ বলে দাবি করলেও, আরাগচি পাল্টা অভিযোগে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার শর্ত জুড়ে দিলেন।
বিশ্লেষকদের মত
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান কূটনীতির প্রস্তাব দিলেও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।



