ইসরাইলের কারাগারে দীর্ঘদিন আটক থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৬০ কেজি ওজন হারিয়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলি সামোউদি। কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাকে এক বছর আটক রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মুক্তি পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে বিস্মিত হন—আগে সুস্থ-সবল থাকলেও এখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
গ্রেফতার ও আটকের বিবরণ
পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে কর্মরত এই সাংবাদিক স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত। গত বছরের ২৯ এপ্রিল সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি বাহিনী। তাদের অভিযোগ ছিল, তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদকে অর্থ সহায়তা করেছেন, তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। এর পরিবর্তে তাকে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন’-এর আওতায় আটক রাখা হয়।
প্রশাসনিক আটকের সমালোচনা
এই পদ্ধতির মাধ্যমে ইসরাইল বহু ফিলিস্তিনিকে অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বন্দি রাখছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত। এমনকি গত বছর ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি মূলত ফিলিস্তিনি ও আরব ইসরাইলিদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
মুক্তির পর অবস্থা
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সামোদি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, আগের তুলনায় তার ওজন প্রায় ৬০ কেজি কমে গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আটক ফিলিস্তিনিদের অনেক সময় পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল



