ভারতের মুম্বাই ও তার পাশের একটি লজিস্টিক করিডোর থেকে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি রুপি মূল্যের ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন জব্দ করেছে দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)। ক্রিকেট খেলার প্যাড ও গ্লাভস এবং আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ভেতরে লুকিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক কোকেন চোরাচালান চক্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।
‘হোয়াইট স্ট্রাইক’ অভিযানে ছয় মাসের গোয়েন্দা কাজ
এনসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘হোয়াইট স্ট্রাইক’ নামের এই অভিযানে দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি চালানো হয়। এরপর নভি মুম্বাই ও থানে জেলার কালাম্বোলি-ভিবান্দি করিডোরে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এনসিবির একাধিক দল এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে।
দুই ধাপের অভিযানে বিপুল মাদক জব্দ
কর্মকর্তারা জানান, অভিযানটি দুটি ধাপে পরিচালিত হয়েছে। এনসিবির একজন মুখপাত্র বলেন, প্রথম অভিযানে কালাম্বোলির কেডব্লিউসি কমপ্লেক্সের কাছে একটি মারুতি সুজুকি সুপার ক্যারি গাড়ি আটক করা হয়। সেখানে থাকা কার্টনগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে ক্রিকেট প্যাড ও গ্লাভসের ভেতর লুকানো ১৩৬টি এক কেজির কোকেনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি ভিবান্দি এলাকায় মাদকের আরও একটি চালানের অস্তিত্ব প্রকাশ করেন। ভিবান্দি এলাকার লক্ষ্মণ কম্পাউন্ডের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে আরও ২১৩টি এক কেজির প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর ফলে মোট জব্দকৃত কোকেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪৯ কেজিতে।
প্যাকেটে নয় স্তরের পলিথিন ও কালো চর্বিযুক্ত প্রলেপ
এনসিবির মুখপাত্র বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ভেতরের ফাঁকাস্থানে লুকিয়ে এসব কোকেন পাচার করা হয়েছিল। প্রতিটি প্যাকেট ৯ স্তরের পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং এর ওপর কালো চর্বিযুক্ত প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশংসা এবং তদন্তের অগ্রগতি
এই বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এনসিবির প্রশংসা করে লিখেছেন, আমরা মাদক চোরাচালান চক্রকে নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দিতে সংকল্পবদ্ধ। মুম্বাইয়ে ১ হাজার ৭৪৫ কোটি রুপি মূল্যের ৩৪৯ কেজি উচ্চমানের কোকেন জব্দ করে এনসিবি একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছে। এটি নিচ থেকে ওপরের দিকে তদন্তের একটি যুগান্তকারী উদাহরণ, যেখানে সংস্থাটি একটি ছোট চালানের সূত্র ধরে বিশাল এক নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য এনসিবি টিমকে অভিনন্দন।
বর্তমানে এই চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও ক্রেতাদের ধরতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণত ভারতে প্রতি বছর গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি কোকেন জব্দ করা হয়। সেই তুলনায় কেবল একটি একক অভিযানেই ৩৪৯ কেজি কোকেন উদ্ধার করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে এনসিবি।



