বৈশাখের ভিড়ে শেষ দেখা: নীরার চলে যাওয়া
বৈশাখের ভিড়ে শেষ দেখা: নীরার চলে যাওয়া

ছবি: এআই/বন্ধুসভা

বৈশাখের সকালটা আজ একটু আলাদা। শহরটা যেন নিজের মতো করে সাজতে জানে। লাল-সাদা পোশাক, মুখে রং, বাতাসে ভেসে আসা বাঁশির সুর—সবকিছু মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য। তবু এই ভিড়ের মধ্যেই রিয়াদের ভেতরটা কেমন ফাঁকা লাগছে।

সে দাঁড়িয়ে আছে মেলার গেটের কাছে, বারবার ভিড়ের দিকে তাকাচ্ছে। কাউকে খুঁজছে সে, নীরা। কলেজ ফেস্টের সেদিনই শেষ দেখা হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেদিন নীরা শুধু হেসে বলেছিল, ‘পহেলা বৈশাখে দেখা হবে, শেষবারের মতো।’ ‘শেষবার’ শব্দটা তখন থেকেই রিয়াদের মাথায় ঘুরছে। ঠিক কী শেষ হতে যাচ্ছে, সেটা সে বুঝেও যেন বুঝতে চাইছিল না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুপুর গড়িয়ে গেলে অবশেষে ভিড়ের মধ্যেই নীরাকে দেখতে পেল। সাদা শাড়ি, লাল পাড়—একদম সাধারণ, তবু চোখ আটকে যায়। চুলগুলো হালকা খোলা, মুখে সেই চেনা হাসি, কিন্তু চোখে যেন কিছুটা দূরত্ব জমে আছে; যা আগে কখনো ছিল না। রিয়াদ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

‘তুমি... সত্যিই চলে যাচ্ছ?’ কথাটা বলতে গিয়েও গলা কেমন শুকিয়ে গেল। নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। চারপাশে তখন হইচই—কেউ গান গাইছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউবা নতুন জামার প্রশংসা করছে।

তারপর খুব ধীরে বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সবাই চলে যাচ্ছি। আমেরিকায়। স্থায়ীভাবেই।’

এ কথার পর আর কোনো শব্দ যেন ঠিক জায়গা খুঁজে পেল না। রিয়াদ শুধু মাথা নেড়ে বুঝল, কিন্তু মেনে নিতে পারল না। কিছুক্ষণ দুজনই চুপ। এই চুপ থাকাই হয়তো তাদের সবচেয়ে বেশি বলা কথা ছিল। রিয়াদ পকেট থেকে একটা ছোট খাম বের করে নীরার দিকে বাড়িয়ে দিল।

‘এটা তোমার জন্য।’

নীরা অবাক হয়ে খামটা নিল। খুলে দেখে, ভেতরে একটা পুরোনো ছবি। কলেজের প্রথম দিন, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ তোলা। দুজনই তখন একে অপরের জন্য প্রায় অপরিচিত।

নীরা হালকা হেসে বলল, ‘তুমি এখনো এসব রেখে দিয়েছ?’

রিয়াদ একটু হাসল, কিন্তু চোখে মিথ্যে লুকাতে পারল না।

‘যা হারাতে চাই না, তা তো ফেলে দেওয়া যায় না।’

আরও পড়ুন: নক্ষত্রের ডায়েরি, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীরা কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকল। যেন কিছু বলতে চায়, কিন্তু ঠিক শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। তারপর ধীরে বলল, ‘বৈশাখ মানে তো নতুন শুরু, কিন্তু সব শুরু একসঙ্গে হয় না, রিয়াদ।’

কথাটা খুব সাধারণ; তবু কোথাও একটা কাঁটার মতো বিঁধে রইল। দূরে আবার কেউ ‘এসো হে বৈশাখ…’ গাইছে। মেলার ভিড়টা আরও ঘন হয়ে উঠছে। নীরা একটু পেছনে সরে গেল।

‘আমি যাই’

রিয়াদ কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। চাইলে হয়তো থামাতে পারত, কিন্তু থামানোর মতো কোনো সম্পর্ক কি আদৌ ছিল? নীরা ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল ধীরে ধীরে। একসময় আর তাকে আলাদা করে বোঝা গেল না। রিয়াদ তখনো দাঁড়িয়ে। চারপাশে এত মানুষ, এত শব্দ, তবু তার কাছে সবকিছু কেমন নিস্তব্ধ লাগছে। নতুন বছরের প্রথম দিন, অথচ তার কাছে মনে হচ্ছে যেন একটা পুরোনো গল্প চুপচাপ শেষ হয়ে গেল।

বন্ধু, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন: গল্প, বন্ধুসভা গল্প