হিজড়া নিরাপত্তাকর্মীদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
হিজড়া নিরাপত্তাকর্মীদের জীবনসংগ্রামের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ছয়জন হিজড়া নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলছে ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামতলায়। এতে ছয়জনের ছবিসহ তাঁদের জীবনসংগ্রাম, অতীত ও বর্তমান সামাজিক অবস্থানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীর পটভূমি

আয়োজকেরা জানান, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছয়জন হিজড়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক অবস্থান তুলে ধরতে ২০২২ সালের জুলাই মাসে ‘তৃতীয় চোখে অন্য জীবন’ শিরোনামে প্রথমবার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

একই বছরের নভেম্বরে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দ্বিতীয়বারের মতো এবং পরের বছরের মার্চে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে তৃতীয়বারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গতকাল একই বিষয় ও শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামতলায় চতুর্থবারের মতো আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়োজকের বক্তব্য

প্রদর্শনীর চিন্তক নঈম উদ্দীন বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন এই তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মীদের দেখে বিষয়টি আমার কাছে ব্যতিক্রম ও অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়। সাধারণত আমরা তাঁদের বাস, রেল বা লঞ্চে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু এখানে তাঁরা দায়িত্বশীল পেশায় কাজ করছেন—এটা আমাকে ভাবিয়েছে। তখন থেকেই এই মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তাধারা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নঈম উদ্দীন আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু ফটোগ্রাফি করি, তাই তাঁদের গল্পগুলো ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হিজড়াদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি তাঁদের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে একদিকে তাঁদের জীবিকা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সমাজে তাঁদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে।’