বিবিসি মাস্টারশেফে বাংলাদেশি সাবিনা খানের ঐতিহাসিক সাফল্য
বিবিসি মাস্টারশেফ ইউকের প্রতিযোগিতামূলক রান্নাঘরে বাংলাদেশী সাবিনা খান নিজেকে একজন অপরাজেয় প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পৌঁছেছেন তিনি। প্রাথমিক রাউন্ডগুলোতে বিভিন্ন পেশার প্রতিযোগীদের কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হলেও, সাবিনা ঢাকার স্ট্রিট ফুডের সেই চেনা ঝাঁঝালো ও খাঁটি স্বাদ বজায় রেখে বিচারকদের নজর কেড়েছেন। প্রতিযোগিতা যত সামনে এগুচ্ছে, সবার নজর এখন সাবিনার রন্ধনপদ্ধতির দিকে। তার রন্ধনপদ্ধতি তাকে একজন সাধারণ শখের রাঁধুনি থেকে পেশাদার শেফ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
সাবিনা খানের পটভূমি ও রন্ধনশৈলী
ঢাকার গুলশানে বেড়ে ওঠা ৪৯ বছর বয়সী সাবিনা খান বর্তমানে লন্ডনে একজন পরিবেশ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। কর্মজীবনের তুমুল ব্যস্ততার মাঝেও তিনি গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব রন্ধনশৈলী ‘দ্য ফ্লেভার ল্যাব’। নিজের বিজ্ঞানমনস্কতাকে কাজে লাগিয়ে মশলার রাসায়নিক পরিবর্তন ও স্বাদ নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা করেন তিনি। একজন সাংবাদিককে সাবিনা জানান, এর আগে সন্তানদের কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দ্বিধা বোধ করলেও এখন তারাই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার কাছে রান্নাঘর হলো একটি গবেষণাগার, যেখানে প্রতিটি ভুল এবং সাফল্য চূড়ান্ত স্বাদ অর্জনের একেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহাসিক উপস্থাপনা
সাবিনার এই বুদ্ধিবৃত্তিক রন্ধনশৈলীর প্রতিফলন দেখা যায় যখন তিনি বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করেন মুড়ি, কাঁচা ছোলা ও সরিষার সমন্বয়ে তৈরি একটি আধুনিক সালাদ এবং তার সিগনেচার পেঁয়াজু। মাস্টারশেফের মঞ্চে বাংলাদেশি খাবারের এমন উপস্থাপনা ছিল ঐতিহাসিক। তার তৈরি লেন্টিল ফ্রিটার্স বা পেঁয়াজু খেয়ে বিচারক ও সমালোচক গ্রেস ডেন্ট এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি এর নাম দেন ‘বুলেটস অফ জয়’ (আনন্দের বুলেট)। সাবিনা সচেতনভাবেই তার রান্নাকে 'ফিউশন' বলতে নারাজ। বরং তিনি ঐতিহ্যের সহাবস্থানে বিশ্বাসী, যেখানে বার্ডস আই বা অ্যাঙ্কো চিলির মতো উপকরণের নিজস্বতা বজায় থাকে।
শিরোপার দৌড়ে সাবিনা
ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে নকআউট পর্বে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে সাবিনা খান এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। সামনের পর্বগুলোতে তিনি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘ফোঁড়ন’ কাটার কৌশল এবং ক্লাসিক ডিশগুলোর আধুনিক রূপান্তর নিয়ে কাজ করবেন বলে জানা গেছে। সাবিনা বলেন, প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এক্সক্লুসিভ সাপার ক্লাব, প্রাইভেট শেফ হিসেবে কাজ করা এবং তার ‘ফ্লেভার ল্যাব’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি রান্নার বই প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন।
আগামী চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আগামী সপ্তাহগুলোতে সেরা ১২ জন প্রতিযোগীর মোকাবিলা করতে হবে সাবিনাকে। তবে ভিন্ন ভিন্ন রন্ধন ঐতিহ্যকে একই থালায় স্বকীয় মহিমায় উপস্থাপনের যে কৌশল তিনি আয়ত্ত করেছেন, তা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। সাবিনা কেবল একটি ট্রফির জন্যই লড়ছেন না, বরং আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশি রন্ধনশৈলী সম্পর্কে ব্রিটিশদের ধারণা বদলে দিচ্ছেন।



