যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই তারা এখন আলোচনায় বসতে চাইছে। সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আগ্রহ
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আগ্রহের বিষয়ে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, এ কারণেই তারা আলোচনায় বসতে চাইছে। আমরা এখন বিষয়টি বিবেচনা করছি। সোমবার আব্বাস আরাঘচি সেন্ট পিটার্সবার্গে ছিলেন। সেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাশিয়ার সমর্থন
রাশিয়ার সমর্থন প্রসঙ্গে এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে আরাঘচি বলেন, ইরান ও রাশিয়া কৌশলগত অংশীদার। তিনি আরও বলেন, দেশ দুটি সবসময় একে অপরকে সমর্থন দিয়ে আসছে। আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ইস্যুতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনও আলোচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমে কোনও আলোচনা করবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং তারা কেবল এমন একটি চুক্তিই করবে যা আমেরিকানদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
পারমাণবিক ইস্যু
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে কাজ করছে বলে অভিযোগ করে আসছে দেশ দুটি, যদিও ইরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে ১২ দিনের যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এখন তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা 'পারমাণবিক ধূলিকণা' নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে চান বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, চলমান কোনও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না।



