বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে তার পদ থেকে অপসারণের কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রতিষ্ঠানটি আরও স্পষ্ট করে বলেছে, চলমান আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
সোমবার (১ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, চেয়ারম্যান নিয়োগের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আজ যদি বাংলাদেশ ব্যাংক আন্দোলনের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরে অন্য কোনো পক্ষ আবার প্রতিবাদ করলে কী হবে? বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব নীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী চলবে। আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
প্রতিবাদ ও সংঘর্ষ
এর আগে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে একদল গ্রাহক ও সমর্থক সোমবার সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রতিবাদের সময় লাঠিচার্জ, ওয়াটার ক্যানন, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, গুলিবিদ্ধসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
নিয়োগ ও পদত্যাগ
২৪ মে রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিযুক্ত চেয়ারম্যান এম জুবায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পিছনে কিছু গ্রাহক ও কর্মকর্তার প্রতিবাদের ভূমিকা ছিল। এছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বর্তমানে দীর্ঘ ছুটিতে রয়েছেন।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিবাদকারী গ্রাহকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু পুলিশ কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাদের ওপর বলপ্রয়োগ করে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও ওয়াটার ক্যানন ব্যবহারের ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একইসঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।



