জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের বিক্ষোভকে ‘মবক্রেসি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
বীথিকার বক্তব্য ও জামায়াতের আপত্তি
সোমবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, ‘তারা (বিরোধী দল) বাজেট প্রকাশিত হওয়া অবস্থায় একটা ব্যানার নিয়ে “মানি না, মানব না” বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। এটা একটা মবক্রেসি।’ বীথিকার এই বক্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী যে মিছিল করেছে, সেটিকে তিনি মবক্রেসি বলেছেন। মবক্রেসি শব্দটি এক্সপাঞ্জ (রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া) করার দাবি জানান তিনি।
স্পিকারের ব্যাখ্যা
জামায়াতের সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। আপনার যখন বাজেটে বলার টার্ন আসবে, তখন এটা ভালোভাবে জবাব দেবেন। এখন এটা এক্সপাঞ্জ করার মতো কোনো কিছুই না।’ স্পিকার আরও বলেন, ‘মবক্রেসি এখন একটা কমন টার্ম হয়ে গেছে। সবার বক্তব্যেই এটা শোনা যায়। এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। এটা অসংসদীয় কোনো কিছু বলে তিনি মনে করেন না।’
বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া
এ সময় ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আসলে মবক্রেসি শব্দটা কোনো ভালো মিনিং ক্যারি করে না। ডেফিনেটলি এটা একটা অবজেকশনেবল (আপত্তিকর) শব্দ।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর ধারণা ওই সংসদ সদস্য খেয়াল করলে এটি বলতেন না। বেখেয়ালে বলে ফেলেছেন। কারণ, এ ধরনের বাজেট প্রতিক্রিয়া এর আগে বিএনপিও করেছে। অনেকে করেছে।’ তিনি মনে করেন, এই শব্দ এখানে বেমানান এবং এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।
বিতর্কের প্রভাব
স্পিকার শব্দটি এক্সপাঞ্জ না করায় জামায়াতে ইসলামী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদে অশোভন ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বিএনপির সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য সঠিক এবং মবক্রেসি শব্দটি বর্তমানে একটি সাধারণ প্রচলিত শব্দ।



