কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার পাঁচ যুবক নয় দিন ধরে মানবেতর জীবন ও অনিশ্চয়তায় আটকে আছেন। গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিন জন অবস্থান করছেন। তবে বিজিবি ও এলাকাবাসী শক্ত অবস্থানে থাকায় বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে পারেনি।
মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটছে যুবকদের
বিজিবি ও বিএসএফের পাহারায় দিন কাটছে এসব যুবকের। তীব্র রোদ, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্লাস্টিকের সামান্য ছাউনির নিচে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা। সেখানে পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা, গোসল বা স্যানিটেশনের কোনো সুবিধা নেই। ফলে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।
ঘটনার বিবরণ
গত ১৪ জুন রোববার ভোর সাড়ে ছয়টায় গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয় জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিন জনসহ মোট নয় জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি ও এলাকাবাসী। পরে তারা দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে আশ্রয় নেয়। ঘটনার চার দিন পর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় বিজিবি।
স্থানীয়দের দাবি ও বিজিবির বক্তব্য
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হোক। জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেব না। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।'



