জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উচ্চস্বরে কথা বলায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি সাংসদের প্রস্তাব
সংসদে নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর ওপর আলোচনায় বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্য নিজেদের নির্বাচনি এলাকার হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দূরবস্থার কথা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জবাব
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জবাবে বলেন, সরকার দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু শয্যা বাড়ানো নয়, প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ল্যাব সুবিধা, নতুন অ্যাম্বুলেন্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, এ বছর ১০০ হাসপাতালে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে।
এরপর ইকরামুল বারী টিপু মান্দার পুরোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা, শিশু রোগীর চাপ এবং চিকিৎসকদের ডেপুটেশনে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, শুধু ৫০ শয্যাকে ১০০ করা বড় বিষয় নয়; সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত উন্নয়ন দরকার।
ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ
ইকরামুলের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দুটি বিষয় পরিষ্কার করতে বলেন। তা হলো: উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা এবং ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের বিষয়ে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক, হেলথ সেন্টার, ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টার, ১০ শয্যা ও ২০ শয্যার হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে উন্নত অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ডেপুটেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ডেপুটেশন বাতিল করে উপজেলায় চিকিৎসক দেওয়া শুরু হবে।
পরে ইকরামুল বারী টিপু তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইচ্ছা জানান। এরপর সংসদ কক্ষে কথাবার্তা বেড়ে গেলে ডেপুটি স্পিকারকে বলতে শোনা যায়, ‘একটু আস্তে কথা বলতে বলেন না।’ এরপর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় চিফ হুইপ... আপনি নিজেও চেষ্টা করছেন। একটু আস্তে কথা বলি আমরা। দিস ইস পার্লামেন্ট।’



