স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক বসানোয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো আশু সম্ভাবনা দেখা না যাওয়ার মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এখনো এ বিষয়ে তৎপরতা না থাকায় এনসিপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

প্রার্থী ঘোষণার পেছনের কারণ

এনসিপির শীর্ষ নেতারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, আগাম প্রার্থী ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরখানেক আগে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছিল, তার ইতিবাচক প্রভাব সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এনসিপিও একই পথে হাঁটছে।

এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, "দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ আছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারকে কবজায় নিয়ে বিএনপি প্রশাসক বসাচ্ছে। আমরা ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ে নির্বাচন দাবি করেছি। সেই দাবির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোন সিটিতে কে প্রার্থী

গত ২৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি নিম্নোক্ত পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া (এনসিপির মুখপাত্র)
  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: আরিফুল ইসলাম আদীব (দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক)
  • রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মো. মোবাশ্বের আলী (রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক)
  • সিলেট সিটি করপোরেশন: আবদুর রহমান আফজাল (মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক)
  • কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: তারিকুল ইসলাম (জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক)

দলটি আরও জানিয়েছে যে, বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্যও চলতি এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে।

জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে অংশ নিয়েছিল এবং ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এনসিপি একই জোটের সঙ্গে থাকবে কিনা, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত তারা এককভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু নির্বাচনের সময়কালে জোটগত সমঝোতা হলে প্রার্থীরা সরে দাঁড়াতে পারেন। সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা এককভাবেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের প্রার্থীরা পরিচিতি তৈরি ও মাঠপর্যায়ের নির্বাচনমুখী সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। যদি নির্বাচনের সময়কালে জোটের প্রয়োজনীয়তার মতো পরিস্থিতি দেখা দেয়, তখন আমরা সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।"

বিএনপির অবস্থান

বিএনপি ইতিমধ্যে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে নিজ দলের নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে বলেছেন যে, আইন পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে সরকার। তবে এনসিপির মতে, বিএনপি স্থানীয় সরকারকে 'কবজায়' নিয়ে প্রশাসক বসাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

এনসিপির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক কাঠামো গোছানো গেলে নির্বাচনে সুবিধা পাওয়া যাবে বলেই তারা বিশ্বাস করেন।