মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের পর ইরানের মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক পদার্থ যৌথভাবে উদ্ধার করার বিষয়ে তেহরান রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৩ জুন) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান মুহূর্তের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন প্রতিনিধি দল সেখানে প্রবেশ করবে এবং সমাহিত পারমাণবিক পদার্থ খুঁড়ে বের করবে।
প্রক্রিয়ার জটিলতা স্বীকার
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ার জটিলতা স্বীকার করে বলেন, মাটির নিচ থেকে এই উপাদানগুলো বের করে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে এটি করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভ থেকে এই ধরনের উপাদান উদ্ধারের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্ভবত কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কাছেই রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কয়েকবার তাদের মত পরিবর্তন করলেও, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন দল সেখানে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
নজরদারি ও নিরাপত্তা
পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন স্পেস ফোর্সের ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে ওই এলাকাগুলোর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হওয়া ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান— এই তিনটি পারমাণবিক কমপ্লেক্সের প্রতিটা কোণ সব সময় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে সেখানে কেউ প্রবেশ করার চেষ্টা করলেই তা ধরা পড়বে এবং প্রয়োজনে সেখানে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই অভিযান
অবশ্য পারমাণবিক উপাদান উদ্ধারের এই অভিযানটি কেবল যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে তিনি মার্কিন সেনাদের কোনো ধরনের বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চান না। এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সময়কার ইরান জিম্মি সংকটের ঐতিহাসিক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ট্রাম্প জানান, তিনি নিজের দেশের মানুষকে তেমন কোনো ঝুঁকিতে ফেলবেন না। তবে যুদ্ধ শেষ হলে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে যৌথভাবে সেই পারমাণবিক পদার্থগুলো উদ্ধার করা হবে এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।



