ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধনে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার দাবি
ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধনে বাণিজ্যচুক্তি দাবি

ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধনে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার দাবি

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সপ্তাহে সম্পাদিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, সংসদে পর্যালোচনার পরই এই চুক্তি কার্যকর, বাতিল বা সংশোধন করা উচিত।

শাহবাগে মানববন্ধনের আয়োজন

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধনে ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখা।

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ মানববন্ধনে বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে এই চুক্তি করা কেন প্রয়োজনীয় ছিল, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। এই চুক্তি করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। আমরা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই চুক্তি পর্যালোচনার জন্য উত্থাপন করার দাবি জানাই। পর্যালোচনার পরই এই চুক্তি কার্যকর, বাতিল বা সংশোধন করতে হবে।'

নেতাদের বক্তব্য ও উদ্বেগ

ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল-আমিন রহমান মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন খানের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সহসাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হকসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে চলার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র কয়েক দিন আগে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান।

চুক্তি নিয়ে সমালোচনা

সৈকত আরিফ আরও বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্যচুক্তি মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এমনকি ইউনূস সরকারের গোপনীয়তা এই আলোচনা-সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

ছাত্র ফেডারেশনের এই মানববন্ধনটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়। সংগঠনটি সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদীয় প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।