ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন ছিল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)। বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এদিন সংসদে দেখা গেছে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং কিছু হাস্যরসাত্মক মুহূর্তও।
মুক্তিযুদ্ধ বনাম ‘৫ আগস্ট’ তুলনায় উত্তেজনা
সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলাম করতে পারে না—এটি হলে তা ‘ডাবল অপরাধ’। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ‘৫ আগস্ট’-এর তুলনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে ডোবার তুলনার মতো।” তার এই বক্তব্যের পর সংসদে উত্তেজনা, হট্টগোল ও বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
‘আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন গুরুতর অপরাধ’
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে—এটা গুরুতর অপরাধ। আমি কোন দল করব, কোন আদর্শ অনুসরণ করব—এটা আমার নাগরিক অধিকার।” তিনি স্পিকারের কাছে ওই বক্তব্যের ‘অসংসদীয় অংশ’ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে।
‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতি হয় না’
সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য বড় বড় কথা বলে পলিটিক্স হয় না।” মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ একদিকে, আর বাকি সব আন্দোলন অন্যদিকে—এটি প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ টানলে তার বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রমাণ দাবি করেন। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে অভিযোগ আনা হলে তার প্রমাণ দিতে হবে।”
‘বিরোধী দল আমাদের ভালোবাসে না’
সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু বিরোধী দল আমাদের ভালোবাসে না।” এসময় তিনি উর্দু ভাষায় বক্তব্যের একটি অংশ তুলে ধরলে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে অনেকেই মুগ্ধ হন।
‘সবাই আমাকে ভালোবাসে, তাই কচলায়’
পার্থের বক্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান রসিকতা করে বলেন, “সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে, এজন্য আমাকে নিয়ে কচলায়।” তিনি অভিযোগ করেন, তার নামে ভুল বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এদিনের অধিবেশনে তর্ক-বিতর্কের পাশাপাশি এমন কিছু মন্তব্য ও ঘটনাও সামনে এসেছে, যা সংসদের আনুষ্ঠানিক পরিবেশের মধ্যেও ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।



