এরশাদের শাসনে শেখ হাসিনাকে বন্দি রাখার কারণ জানতেন না সাবেক সেনা কর্মকর্তা
এরশাদের শাসনে শেখ হাসিনাকে বন্দি রাখার কারণ জানতেন না সাবেক সেনা কর্মকর্তা

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনাকে কী কারণে নিজের তত্ত্বাবধানে বন্দি রাখা হয়েছিল, তা জানতেন না বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

আদালতে বক্তব্য

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা বলেন। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

জেরার বিবরণ

জেরাকালে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো জানতে চান, শেখ হাসিনাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আটক করেছিলেন কিনা। জবাবে আযমী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করিনি। শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে কেন বন্দি করে আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা জানতাম না। জানার চেষ্টাও করিনি। তখন আমি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার ছিলাম, সামরিক শাসন চলছিল—এ ধরনের প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর জবাবে আইনজীবী টিটো অভিযোগ করেন, এরশাদের মার্শাল ল’র সময় অনেককে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছিল। তবে আযমী তা অস্বীকার করেন এবং ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এ দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন।

পূর্বের জেরা

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর জেরায় আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে হেয়ার রোডের একটি বাসায় দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে কয়েকদিন তার অধীনে রাখা হয়েছিল।

মামলার বর্তমান অবস্থা

মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকও আছেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

এছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।