বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেছেন, “যারা এদেশে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন, আল্লাহর ভয় তাদের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ আমার মাথায় যদি টুপি আর দাড়ি থাকে, তাহলে অবশ্যই আমার মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকতে হবে।”
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় হুইপ
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পাঁচ নেতাকে ফাঁসির প্রসঙ্গ
মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, “আপনাদের পাঁচ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্টকে যদি এই দেশে ডাকেন তাহলে পরবর্তী পালা কিন্তু আপনাদের সন্তানদের।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখন গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে, তখন জিয়া পরিবার এগিয়ে আসে দেশের মানুষের আশা-প্রত্যাশা, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। আপনারা (জামায়াত) ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের পেছনে, গেটে গেটে কালেমা লিখেছেন। তিনি রাজনীতি করার জন্য নয়, ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে লিখেছেন। কিন্তু এই জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা ধন্যবাদ দিলেন না।”
জান্নাত নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা
তিনি আরও বলেন, “একটি বিশেষ দলে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে— আল্লাহর রহমতের সঙ্গে যারা চ্যালেঞ্জ করে তাদেরকে কী বলা হবে? আমি কথাটা এই কারণে অবতারণা করলাম— জান্নাত একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং আল্লাহ যাকে দয়া করেন তিনি জান্নাতে যাবেন। কিন্তু আমাদের পাশের যে দল, তারা বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার জন্য সেদিন জান্নাত দিয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে ঘুরেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের এই বিভ্রান্তকর বক্তব্যকে, বিভ্রান্তকর চাওয়াকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের বাস্তবায়ন করতে দেন নাই। সুতরাং আমি বলতে চাই— জান্নাত নিয়ে যেন এদেশে আর কোনো ধর্মীয় রাজনীতি না চলে।”
ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঁশিয়ারি
হুইপ বলেন, “এদেশের ধর্মব্যবসা যারা করেন তাদের বুঝে করা উচিত, ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে আসেন। আমাকে আপনারা অনেকে ভুল বুঝতেছেন, আমি কিন্তু আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, যারা এদেশে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করেন, আল্লাহর ভয় তাদের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ আমার মাথায় যদি টুপি আর দাড়ি থাকে, তাহলে অবশ্যই আমার মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকতে হবে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন— যারা আমার দ্বীন নিয়ে, আমার ইসলামকে নিয়ে পার্থিব স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়, তাদের জন্য আমার দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে। তারা পৃথিবীতে যেমন অপমানিত লাঞ্ছিত হবে, আখেরাতেও তারা আল্লাহর শাস্তিতে পতিত হবে। এটা কোরআনের আয়াত।”
জামায়াতের সমালোচনা
হুইপ বলেন, “আপনারা যারা ধর্ম নিয়ে, ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করেন, তারা বিধর্মীকে দিয়ে কোরআন প্রতিষ্ঠা করতে চান। আপনারা মুখে একটা বলে অন্তরে আরেকটা বিশ্বাস করেন। আমার কথাগুলা রেকর্ড হচ্ছে আমি আপনাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলবো— আপনারা ৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আমাদের সরকারে ছিলেন। আপনারা দুইজন মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু একবারের জন্যও আপনারা ইসলামের জন্য একটি শব্দ সেদিন উচ্চারণ করেন নাই। সেদিন আপনারা সরকারের অংশ হিসেবে একটি কথাও বলেন নাই। আজ সরকারের মাত্র দুই মাস ১১ দিন হয়েছে। আপনারা শুরু করেছেন কী? আপনারা শুরু করেছেন আরেক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের কিছু কথা, কিছু ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনাদের পাঁচজন নেতাকে ফাঁসির কাষ্ঠে হত্যা করা হয়েছে। এখানে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের সন্তানরা আছেন, ভুলে যাবেন না। আপনারা আবার যদি ওই ফ্যাসিস্টকে এই দেশে ডাকেন, তাহলে পরবর্তী পালা কিন্তু আপনাদের সন্তানদের। আপনাদের সন্তানদের পালা। পরবর্তী সময়ে এই ফ্যাসিস্ট যদি আবার বাংলাদেশে আপনাদের কারণে আসে। মনে রাখবেন আপনারা কিন্তু মাফ পাবেন না, ক্ষমা পাবেন না।”



