জাতীয় সংসদে শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে তিনি সংসদ সদস্যদের (এমপি) মোবাইল ফোনে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া করা এবং দর্শক গ্যালারির কারো সঙ্গে কুশল বিনিময় করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় ক্ষোভ
বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সংসদ সদস্যরা শিষ্টাচার অনুসরণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘একজন সদস্যকে সরকারি দলের আসনে গিয়ে বসতে দেখা গেছে। ফ্লোর ক্রসিং অনুমোদিত নয়।’ এছাড়া ২১ এপ্রিল এক সদস্যকে অধিবেশন কক্ষে চা পান করতে দেখা যায়, যা সংসদে নিষিদ্ধ।
অতীতের ঘটনা প্রসঙ্গ
গত ১০ এপ্রিল সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, ‘এটা শাহবাগ চত্বর নয়, অসহিষ্ণু হবেন না।’ তিনি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
নতুন নির্দেশনা
স্পিকার বলেন, ‘দর্শক গ্যালারিতে পরিচিত কেউ থাকলে তাকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখা যায় না। আজ দুই সদস্যকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা গেছে, যা অনভিপ্রেত।’ তিনি স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নিয়ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা নত করে সম্মান জানাতে হবে। স্পিকার ও বক্তার মাঝখান দিয়ে ক্রস করা ঠিক নয়।’
মোবাইল ফোন ও খাওয়া-দাওয়া নিষেধ
অনেক সদস্য সংসদে টেলিফোনে কথা বলেন, কেউ কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেন। স্পিকার বলেন, ‘সংসদে টেলিফোনে আলাপের রেওয়াজ নেই। মোবাইল ফোন মিউট করে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে লবিতে গিয়ে কথা বলুন।’ তিনি পানাহারের ঘটনাও উল্লেখ করে বলেন, ‘সংসদে খাওয়া-দাওয়ার কোনো বিধান নেই। এসব কথা বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু সংসদের মর্যাদা রক্ষা জরুরি।’
পয়েন্ট অব অর্ডার প্রসঙ্গ
‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলার নিয়ম প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা উত্তম। জরুরি হলে দাঁড়িয়ে কোন বিধিতে কথা বলছেন, তা উল্লেখ করতে হবে।’ তিনি নতুন সদস্যদের ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ বইটি পড়ার পরামর্শ দেন।
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সকলে সতর্ক থাকবেন এবং সংসদের মর্যাদা বজায় রাখবেন।



