মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা
ঢাকার দোহারে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চাপ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের মধ্যে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, এনজিওর কর্মীদের ভয়ভীতি ও দুর্ব্যবহারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ঋণ আদায়ে কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে তারা।
মারা যাওয়া দুজন হলেন- দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী আক্তার এবং তার মা রেহানা বেগম। লাভলী আক্তার মারা যান গত ২৪ জুন। আর তার মা রেহানা বেগমের মৃত্যু হয় সোমবার (২৯ জুন) রাতে।
ঋণের বিবরণ ও চাপের ঘটনা
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে উপজেলার বটিয়া শাখার ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামে একটি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নেন লাভলী আক্তার। ওই টাকা দিয়ে তিনি ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু ছেলে নিয়মিত টাকা না পাঠানোর কারণে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে কিস্তির টাকা আদায়ে লাভলীকে চাপ দিচ্ছিলেন এনজিওর কর্মীরা। একপর্যায়ে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে নাগেরকান্দায় মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেও এক কর্মকর্তা পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান। এর পরই লাভলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মায়ের মৃত্যু ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
লাভলীর মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই ঋণের বিষয়ে কথা বলতে এনজিওকর্মীরা আবার রেহানা বেগমের বাড়িতে যান বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। রেহানা বেগমের ছেলে ও লাভলীর ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মা ঋণের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তারপরও এনজিওর লোকজন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মৃত্যু হয়। এর পাঁচ দিনের ব্যবধানে বোনের মৃত্যু হয়। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার চাই।’
এনজিওর বক্তব্য
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের বটিয়া শাখার ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘লাভলী আক্তার ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হন। টাকা আদায়ে চেষ্টা করা হলেও তাকে বা তার মাকে চাপ দেওয়া হয়নি। লাভলী মারা যাওয়ার পর ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়ার জন্য মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করতে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন আমাদের লোকজন।’
পুলিশের অবস্থান
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার দোহার সার্কেলের এএসপি শামীম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’



