ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা ভেস্তে দিয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিদর্শনের পর আজ মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ
দুই বছর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে থেকে আজ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর পুলিশ সারা দেশে নজরদারি বাড়ায়। রাজধানীতে কড়া পাহারা বসায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আওয়ামী লীগ আজকের মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইছে। তাদের এই পরিকল্পনাকে আমরা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছি। আমি আশা করি, সামনে যে কয়েক ঘণ্টা সময় বাকি আছে, সেই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।”
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ কর্মীদের। বাইরে থেকে ঢাকায় আসার পরিকল্পনাও ছিল। সেই তথ্য আগাম পেয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। সে অনুযায়ী তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোসহ বিভিন্ন চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোবাইল প্যাট্রোল, সাদাপোশাকে টহলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাইরের জেলাগুলো থেকে রাজধানীতে আসার পরিকল্পনা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখ, ট্রেন স্টেশন, বাস স্টেশনসহ সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
গ্রেপ্তার ও তল্লাশি
কমিশনার বলেন, “বিভিন্ন মেস, হোটেল এবং যেসব জায়গায় তাদের অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আজকে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়।”
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ২৬ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করার কথা ইতিমধ্যে জানিয়েছে ডিএমপি।
নাশকতার পরিকল্পনার প্রমাণ
নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, প্রশ্নে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দলটির মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সে বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মিছিল ও মিছিল–পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের এই ঘটনা থেকে একটি বিষয় প্রতিভাত হয়েছে যে তাদের যেকোনো নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
যেহেতু মিছিল থেকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা থেকে ডিএমপি কমিশনার ‘মোটামুটি নিশ্চিত’ যে সুযোগ পেলে তারা নাশকতামূলক কাজ চালাতে পারে। তিনি সেই সঙ্গে বলেন, তবে পরিকল্পনা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।
তাজিয়া মিছিলের নিরাপত্তা
মোসলেহ উদ্দিন জানান, এবারের পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বের হবে। এর মধ্যে লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর থেকে মোট ২৮টি ইমামবাড়ার আয়োজনে ১ থেকে ৭ মহররম পর্যন্ত ১০টি, ৮ মহররম ১০টি, ৯ মহররম ১৯টি এবং ১০ মহররম ২৪টি তাজিয়া মিছিল হবে। প্রতিটি তাজিয়া মিছিলের রুট নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অতীতে তাজিয়া মিছিলে হামলাকারীদের কেউ কেউ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এবার হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না—সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আলামত তাঁদের কাছে নেই। তবে তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।



